পাকিস্তানের নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিলো ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ভারত সরকার আশা করে দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গিবাদ দমনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তানের নতুন সরকার। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা আশা করছি পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়াকে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও উন্নত করার জন্য সন্ত্রাসমুক্ত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
অনেকদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করছে যে কাশ্মির অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষণা করছে পাকিস্তান। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান দুবার মুখোমুখি যুদ্ধে জড়িয়েছে। ১৯৪৭ ও ১৯৬৫ সালে উপমহাদেশের পারমাণবিক শক্তিধর দেশ দুটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সম্প্রতি ওই এলাকায় বেড়েছে গোলাগুলির ঘটনা। কাশ্মির সীমান্তে ভারত-পাকিস্তান পারস্পরিক গোলাগুলির সমান্তরালে চলছে দোষারোপের খেলা। এর মধ্যেই গত ২৯ মে জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণরেখায় ২০০৩ সালের যুদ্ধজনিত সমঝোতা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে একমত হয় ভারত ও পাকিস্তান। সমঝোতা অনুযায়ী, কোনও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হলে, ফ্ল্যাগ মিটিং,ফোনে কথোপকথন এবং আলোচনার মাধ্যমে সেটা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কোনওভাবেই যাতে সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি নষ্ট না হয়,সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। কিন্তু ২০০৩ সালের যুদ্ধবিরতি মানতে সম্মত হলেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রায়ই গোলাগুলি হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে সরসরি ইমরান খানের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা না বলা হলেও তারা জানায়, ‘অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করায় পাকিস্তানি জনগণকে সাধুবাদ। ভারত চায় পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে।’