আসাম থেকে ফেরত পাঠানো হলো ৫২ বাংলাদেশিকে

আসামে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি)’র চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেরদিন রবিবার (২৯ জুলাই) ৫২ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সে দেশের কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে বলছে, অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে, আসাম-মেঘালয়া-বাংলাদেশ ত্রি জংশনের মানকাচার সেক্টর থেকে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালস এর নাগরিকত্ব পরীক্ষায় এই ৫২ জনকে ‘বিদেশি’ সাব্যস্ত করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরেই তাদেরকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিলো।

নাগরিক তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে থমথমে আসাম
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস-এর খবরে ভারতের স্বরাষ্ট্র দফতরের মুখ্য সচিব এলএস চাংসানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ৫২ বাংলাদেশির সবাইকে বিদেশি সাব্যস্ত করেছে বিচারিক আদালত। তাদের কেউ হয়তো অবৈধভাব সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে, কেউ আবার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আসামে থেকে গেছে। দক্ষিণ সালমারা জেলার উপ কমিশনার ডেক্কান ক্রনিকলকে বলেন, ‘এসব বাংলাদেশির ব্যাপারে দুই দেশের পক্ষ থেকে যাচাই বাছাইয়ের পর তাদেরকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আইবি টাইমস বলছে, বিতাড়িত ৫২ বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে কয়েকজনকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের কারণে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে আটকের পর তাদেরকে রাজ্যের আলাদা আলাদা আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল এবং গত চার-পাঁচ বছর ধরে তারা সেখানেই ছিলেন। নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে আইবি টাইমস জানায়, আটক থাকা বাংলাদেশিদের অনেকে দেশে ফিরতে কূটনৈতিক ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ছিল। বিতাড়ন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে ও সম্পূর্ণ করতে ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য হিন্দু জানায়, ‘বাংলাদেশের গুয়াহাটিভিত্তিক সহকারি হাই কমিশনারের কার্যালয় ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার পরই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে আসামের রাজধানী গোহাটি থেকে রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন তালিকা উন্মুক্ত করেন। নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ৩ কোটি ২৯ লাখ অধিবাসীর মধ্যে ২ কোটি ৮৯ লাখকে চূড়ান্ত নাগরিকত্ব তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।  তালিকায় স্থান মেলেনি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ৪০ লাখেরও বেশি অধিবাসীর। তাদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আবারও নাগরিকত্ব পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে।