আসামের নাগরিক তালিকা একটি খসড়া মাত্র। তাই এর ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে যে দাবিদাওয়া এবং আপত্তি-অসন্তোষ রয়েছে, তা মেটানো হবে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে। সংশ্লিষ্ট দাবি ও পাল্টা দাবিগুলি কোন পদ্ধতিতে মেটানো হবে আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে তা শীর্ষ আদালতকে অবহিত করতে হবে। মঙ্গলবার এমনটাই নির্দেশনা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি আর এফ নরিম্যান এ নির্দেশ জারি করেন।
আসামের এই নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পর এখন অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। তবে বিরোধীরা বলছেন, এক বছরের মধ্যে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। আর সে কথা মাথায় রেখেই ভোটের জন্য ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’র তকমা লাগানো হয়েছে বেছে বেছে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের গায়ে। মুসলিমদের নামই বেশি বাদ পড়েছে নাগরিকপঞ্জিতে।
আসামের এই তালিকা ধরে যদি ৪০ লাখ মানুষকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এটা হবে বিশ্ব ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে বড় উৎখাতের ঘটনা।
এই তালিকার সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ভারতকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বিজেপি। খ্রিস্টান, মুসলিম, দলিত হলেই আলাদা করা হচ্ছে? কেন্দ্রের এই আচরণ সমর্থনযোগ্য নয়। পশ্চিমবঙ্গে এসব হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে মমতার এমন অবস্থানের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, রাজ্যে তার দল ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গেও একই রকম পদক্ষেপ করা হবে।
অন্যদিকে আসামের নাগরিকপঞ্জি কর্মসূচিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মধ্যপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ড সরকারও আসামের রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ইতোমধ্যেই দুই রাজ্যের প্রতিনিধিরা বিষয়টি বুঝতে আসামে হাজির হয়েছেন। সূত্র: আনন্দবাজার, এনডিটিভি।