কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর গজনিকে নিজেদের দখলে নিতে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আফগান সেনাদের সঙ্গে তৃতীয় দিনের মতো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তালেবান। আফগান সেনাপ্রধান মোহাম্মদ শরিফ ইয়াফতালি দাবি করেছেন, শহরটি তালেবানদের হাতে চলে যাওয়ার কোন ঝুঁকি নেই। তবে এএফপি’র খবর থেকে জানা গেছে, শহরজুড়ে তালেবানের প্রবল উপস্থিতি রয়েছে। স্থানীয়রা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছে, শহরটির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের কোনও আলামত তারা পাচ্ছেন না।
শুক্রবার ভোরে গজনিতে তালেবানের হামলা শুরুর পর সকালের দিকেই ১৬জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আফগান কর্তৃপক্ষ এখনও হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত না করলেও স্থানীয় টেলিভিশন ওয়ানটিভি জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা একশো ছাড়িয়েছে। তালেবান হামলায় শহরের টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ায় প্রাদেশিক রাজধানী শহর গজনিতে আসলে কি ঘটছে তার খবর পাওয়া যাচ্ছে না। এই শহরের ওপর দিয়েই রাজধানী কাবুল ও কান্দাহারের মধ্যকার সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। তবে ওই সড়কে মাইন পুতে রেখেছে তালেবান যোদ্ধারা।
সম্প্রতি কাতারে মার্কিন কর্মকর্তা ও তালেবানদের মধ্যে গোপন এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত জুনে ঈদ উদযাপনেরর জন্য তিনদিনের যুদ্ধবিরতি দুই পক্ষই কঠোরভাবে অনুসরণের পর ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। আফগান সরকারের পক্ষ থেকে তালেবানদের শান্তি আলোচনায় বসাতে চাপ জোরালো করার মধ্যেই এই হামলা চালাচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
তালেবান হামলার জবাবে মার্কিন সেনাবাহিনী বেশ কয়েক দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তালেবানদের প্রাথমিক হামলা ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি করে মার্কিন বাহিনীর তরফে সাংবাদিকদের বলা হয়, কোনও এলাকা দখলের এটি ছিল ‘আরেকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা’। রবিবার আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যন্ট কর্নেল মার্টিন ও’ডোনেল বলেন, আফগান সেনাবাহিনী তাদের ভূমির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। সব সরকারি দফতর এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে। আফগান সেনাপ্রধান মোহাম্মদ শরিফ ইয়াফতালি সাংবাদিকদের বলেন, শহরের কৌশলগত এলাকা ও কেন্দ্রগুলো আফগান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর তালেবান যোদ্ধারা মানুষের বাড়িঘর ও দোকানপাটে লুকিয়ে থেকে যুদ্ধ চালাচ্ছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী ও আফগান কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে শহরে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা বলা হলেও স্থানীয় আইন প্রণেতা চমন শাহ ইহতেমাদি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, শুধুমাত্র গভর্নরের কার্যালয়, পুলিশ সদর দফতর ও গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয় এলাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এখন সেই কার্যালয়গুলোরও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তালেবান। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক বলেছেন, তালেবান যোদ্ধারা মোটেও পালিয়ে থাকছে না। শহরজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। বেশ কয়েকটি পুলিশ চেকপয়েন্ট এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। বিভিন্ন সরকারি দফতরে আগুন দিচ্ছে তারা।
শহরের বাইরের রাস্তায় মাইন পুতে রাখা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সেখানকার বাসিন্দারা পালাতেও পারছে না। শহর থেকে পালাতে পারা আবদুল ওয়াকিল নামে এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেছেন, শহরের সবখানেই মৃতদেহ, আগুনে পোড়ার চিহ্ন ও আগুন জ্বলছে। আফগান বার্তা সংস্থা টোলো নিউজ জানিয়েছে, পাকতিয়া থেকে রওনা দেওয়া আফগান সামরিক বাহিনীর একটি দলকে গজনির ৮০ কিলোমিটার দূরে বাধা দিয়েছে তালেবান। সেখানে থেকে পরে তারা আর সামনে এগোতে পারেনি।