কেরালায় বন্যার পর সাপের উপদ্রব

ভারতের কেরালায় বন্যা পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে সাপের উপদ্রব। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি সাপ ধরার দল মোতায়েন করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতেই সাপের কামড়ের ইনজেকশন সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

কেরালায় সাপের উপদ্রব

ভারতের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে চার শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ভারতের ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স সেন্টার’ (এনইআরসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় রাজ্যের ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি ভিজায়ান জানান, প্রাথমিক হিসাবে বন্যার কারণে রাজ্যটির প্রায় ১৯ হাজার ৫১২ কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলেছে, এই বন্যার পর ২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিদেশি সহায়তা নিতে যাচ্ছে ভারত।

বন্যা আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের অনেকেই বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন এসব মানুষজন। তবে এখন নতুন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তারা। কারণ রাজ্যটিতে ব্যাপক আকারে সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ঘরের সিলিং, কার্পেটের নিচে, ওয়াশিং মেশিনের ভেতরে ও রান্না ঘরে দেখা মিলছে সাপের। তাই বাড়িতে ফিরে নতুন বিড়ম্বনার মধ্যে আছেন বাসিন্দারা।

সাপ আতঙ্কে বাড়ির সব জিনিস তল্লাশি করছেন কেরালার বাসিন্দারা

সাপ ছাড়াও বাড়িগুলোতে কাঁকড়াবিছেসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গও আশ্রয় নিয়েছে। তাই বাড়ি ফিরেই এসবের মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একজন নারী তার বাড়ির বাগানে একটি বিশাল অজগরের প্রবেশ ঠেকানোর জন্য ঝাটার হাতল দিয়ে দেওয়ালে আঘাত করছেন। মধ্য ও উত্তর কেরালার বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। সেখানকার হাসপাতালগুলোতে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।

স্থানীয় সাপুড়ে ভাভা সুরেশ হিন্দুস্তান টাইমস বলেন, তিনি ইরনাকুলাম জেলা থেকে পাঁচটি কোবরা সাপ ধরেছেন। তিনি বলেন, একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ওয়্যারড্রোব থেকে একটি সাপ ধরা হয়। আরেকটি একটি বাড়ির তাকের মধ্যে ছিল।

ভারতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই’র খবরে বলা হয়, ফিরে বাসিন্দাদের তাদের বাড়িতে ঢোকার সময় হাতে লাঠি রাখতে বলা হয়েছে।