আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ

আফগানিস্তানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোহাম্মদ হানিফ আতমার। এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ ঘানির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শনিবার তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই খবর জানিয়েছে। আতমারের পদত্যাগের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক আফগান রাষ্ট্রদূত হামদুল্লাহ মোহিবকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানের পদত্যাগী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোহাম্মদ হানিফ আতমার

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত এক চিঠিতে আতমার বলেছেন, শান্তি, জাতীয় অখণ্ডতা, নির্বাচন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে সরকারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। চার বছর তার ওপর আস্থা রাখায় চিঠিতে তিনি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। চিঠিতে আতমার বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মতপার্থক্যের কারণে আমি পদ্যতাগ করছি। কারণ আমরা কোনও ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারিনি।’

আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র কাদির শাহ তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘানির দীর্ঘদিনের সহযোগী আতমারকে দেশটির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তার পদত্যাগের কিছুক্ষণ পর আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের ভবন থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট আতমারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। তার স্থানে হামদুল্লাহ মোহিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। হামদুল্লাহ মোহিব যুক্তরাষ্ট্রে আফগান রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ঘানির প্রধান উপদেষ্টা ফজল ফজলি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা খাতে ব্যর্থতার পর প্রেসিডেন্টই আতমারকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। এই টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘নিরাপত্তা খাতে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে এই খাতে নেতৃ্ত্ব বদলানোর কথা বলা হয়েছিল।’

এই মাসে আফগানিস্তানের বিদ্রোহী তালেবানরা রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছে। তালেবানরা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর গজনিতে ব্যাপক সহিংসতা ঘটিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্যকে হত্যা করেছে।