কাশ্মির পুলিশ প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো এসপি বৈদ্যকে

গভর্নর শাসিত জম্মু-কাশ্মিরের পুলিশ প্রধানের পদ থেকে এসপি বৈদ্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে রাজ্যের পরিবহন কমিশনার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের পুলিশ প্রধানের গুরুতর মতপার্থক্যের ফলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাশ্মিরের পুলিশকর্মীর পরিবারের অপহৃত সদস্যদের ‘মুক্তিপণ’ হিসেবে গত সপ্তাহে বিদ্রোহীদের স্বজনকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাকেও এই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। পুলিশের নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত কারাগারের মহাপরিচালক দিলবাগ সিং কাশ্মির পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

এসপি বৈদ্য
২৯ আগস্ট বুধবার এক হামলায় চার পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর কাশ্মিরের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার রিয়াজ নাইকুর বাবা আসাদুল্লাহ নাইকুসহ বেশ কয়েজন আত্মীয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার জের ধরে বিদ্রোহীরা পরেরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাশ্মিরের অনন্তনাগ, কুলগাম, সোপিয়ান ও পুলওয়ামা জেলায় বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের বাসায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ছিলেন হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য রিয়াজ নাইকু’র বাবাও।

পরে বিদ্রোহীদের আত্মীয়দের পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার পর পুলিশের আত্মীয়দেরও মুক্তি দেওয়া হয়। সূত্রকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানায়, এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বলা হয়, এইভাবে বিদ্রোহীদের ছেড়ে দেওয়ার ফলে জম্মু ও কাশ্মির পুলিশের ভাবমূর্তির যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। এও বলা হয় যে, পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের ভুল সিদ্ধান্তও এর জন্য দায়ী। ওই ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) কাশ্মির পুলিশ প্রধানের পদ থেকে বৈদ্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গত জুনে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি কাশ্মিরে মেহবুবা মুফতির দল পিপল’স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে জোট ভাঙার পর থেকে সেখানে গভর্নরের শাসন চলছে। গত মাসে গভর্নর এনএন ভোহরার জায়গায় সত্যপাল মালিককে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন গভর্নর সত্যপাল মালিকের সঙ্গেও এসপি বৈদ্যর বিরোধ চলছিলো। সত্যপাল মালিক দায়িত্বগ্রহণের পর এসপি বৈদ্যর প্রশাসনিক ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছিলেন এবং তার অধস্তন কর্মকর্তা মুনির খানকে কিছু দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে গভর্নর ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বৈদ্য। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, পুলিশ সদর দফতরে দুর্নীতি আছে। রাষ্ট্রীয় নজরদারি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তদন্ত করছে।

এসপি বৈদ্যের ঘনিষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, কাঠুয়ায় শিশু জয়নাবের ধর্ষণ ও হত্যা মামলা নিয়ে বৈদ্যের শক্ত অবস্থানের কারণে বিজেপি তার ওপর অসন্তুষ্ট ছিল। রাজ্য বিজেপির মন্ত্রীরা অভিযুক্তদের সমর্থনে মিছিল করেছিল। সূত্রের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্র সরকার কাশ্মিরে বিভিন্ন পদে রদবদল আনতে চাইছে। এদিকে শুক্রবার সকালে এক টুইটার পোস্টে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজিপিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বৈদ্য।