নিজেদের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বড় একটি সামরিক প্রদর্শনী করেছে উত্তর কোরিয়া। ওই প্রদর্শনীতে কোনও কোনও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির এক সংবাদদাতা। ওই প্রদর্শনীতে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন কোনও বক্তব্য রেখেছেন কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।
উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র সক্ষমতা ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে ওই প্রদর্শনীতে দেখানো সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে চলছে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ। কোনও কোনও বিশ্লেষক বলছেন সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের বৈঠকের পর এই প্রদর্শনীতে স্বর নিচু রেখেছে উত্তর কোরিয়া।
এই প্রদর্শনীতে উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হলে তা উত্তেজনাকর বলে বিবেচনা করা বিবেচিত হতো। এই প্রদর্শনীর কোনও ভিডিও ফুটেজ এখনও প্রকাশ করেনি উত্তর কোরিয়া। তবে প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকা এএফপির এক সংবাদদাতা, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব টেলিভিশন থেকে ছবি ধারণ করা এনকে নিউজ তাদের খবরে জানিয়েছেন কোনও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যায়নি।
Parade just finished: North Korea displayed NO ICBMs, medium range missiles.
— NK NEWS (@nknewsorg) September 9, 2018
Pictured here was the heaviest military hardware on display pic.twitter.com/WvHv3IHXKW
কোরীয় উপত্যকায় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে গত জুনে চুক্তি স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তবে ওই চুক্তিতে নিরস্ত্রীকরণের কোনও সময় সীমা উল্লেখ করা হয়নি। কিভাব এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে তাও নির্দিষ্ট করা হয়নি ওই চুক্তিতে। দুই নেতার বৈঠকের পর নিয়মিত দুই দেশের মধ্যে সফর ও পাল্টা সফর হতে থাকলেও সর্বশেষ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উত্তর কোরিয়া সফর বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এর জের ধরেই দুই পক্ষই নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতি ব্যাহত করার বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে।
সামরিক প্রদর্শনীর পাশাপাশি গত ৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বড়ো একটি ক্রীড়া আসর আয়োজনও করছে উত্তর কোরিয়া। এই বছরের আসরে সমন্বিত এক প্রদর্শনীতে উত্তর কোরিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে একিট প্রতিকী মহড়া প্রদর্শন করার কথা রয়েছে। এই মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে দ্য গ্লোরিয়াস কান্ট্রি।
স্যাটেলাইটে পাওয়া গত দুই সপ্তাহের ছবি বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন সেপ্টেম্বর জুড়ে চলা এই ক্রীড়া আসর খুবই বড়ো পরিসরে আয়োজন করা হবে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এই ধরণের এক আয়োজনে লাখ লাখ ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিল।
অতীতের আসরগুলোতে বড় বড় স্টেডিয়াম ভর্তি অংশগ্রহণকারীদের দেখা গেছে, ছন্দবদ্ধ শারিরীক কসরত ও সমন্বিত নাচের প্রদর্শনী ছিলো ওই আসরগুলোতে। দৃষ্টিনন্দন ওই প্রদর্শনী অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করলেও জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল এসব প্রদর্শনীতে শিশুদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।