এ যেন হলিউডি সিনেমার কোনও গল্প। ছোট তরীতে করে সাগরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। পানি ও খাবারের অভাব, সব প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা। এমন সবই ঘটেছে ইন্দোনেশীয় তরুণ আলদি নভেল আদিল্যাংয়ের সঙ্গে। ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি একটি মাছধরার নৌকায় হারিয়ে যান তিনি। ৪৯ দিন পর তাদের উদ্ধার করা হয়।
চলতি বছর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে হারিয়ে যান আলদি। ঝড়ো বাতাসে চলে যান গুয়াম অঞ্চলে। তার নৌকাটি দেখতে অনেকটা কুঁড়েঘরের মতো। সেখানে আলো জ্বালিয়ে মাছ শিকার করা হয়। সেখানে কোনও প্যাডেল বা ইঞ্জিন নেই। শুধু তীরের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাধা থাকে। এমন নৌকাকে বলা হয় রমপং।
কিন্তু ১৪ জুলাই হঠাৎ বাতাসে সৈকত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন আলদি। সঙ্গে ছিলো না পর্যাপ্ত খাবার বা পানি। ফলে সাগরের লবণাক্ত পানি খেয়েই বেঁচে থাকতে হয়েছে তাকে। আর মাছ ধরে রান্নার জন্য নৌকার কাঠ খুলে আগুন জ্বালিয়েছেন আলদি।
এই সময়টা একা অনেক ভয়ের সঙ্গে কাটিয়েছে আলিদ। জাপানের কূটনীতিক ফাজার ফেরদাউস বলেন, কখনও কখনও চিৎকার করে কেঁদে উঠেছে আলিদ। যখনেই কোনও বড় জাহাজ দেখেছে, সে ভেবেছে এবার বোধহয় উদ্ধার হবে। কিন্তু ১০টিরও বেশি জাহাজ তার পাশ দিয়ে গেলেও উদ্ধার করেনি।
৩১ আহস্ট আদিলাং একটি ছোট কুড়েঘর দেখতে পেয়ে জরুরি বার্তা পাঠান। েএরপর পানামার একটি জাহাজ তাকে উদ্ধার করে। ওই জাহাজের ক্যাপ্টেনেই কোস্টগার্ডকে খবর দেয়। এরপর তাকে জাপানে নিয়ে যাওয়া হয়। ৬ সেপ্টেম্বর জাপান পৌঁছান আদিলাং। এর দুইদিন পর ইন্দোনেশিয়া ফিরে পরিবারকে কাছে পান তিনি।