ইরানে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আমিরাত ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তির বিরোধিতাকারী দেশগুলোর এক বৈঠকে এমন আহ্বান জানান তারা। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইরানে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে নিজ নিজ দেশের এমন অবস্থান তুলে ধরেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরিচালক। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
বৈঠকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের ইরানে সরকার উৎখাতের ডাক দেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি না যে, অভ্যন্তরীণ চাপ অত্যন্ত তীব্র না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভবপর হবে।
আদেল আল জুবায়ের বলেন, কিভাবে আমরা এমন একটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি, যারা আমাদের হত্যা করতে চায়।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল ওতেইবা বলেন, ইরানের ক্ষমতার পালাবদলে বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে এবং এক্ষেত্রে এটাই প্রধান নিয়ামক। আমি মনে করি, ইরানের পররাষ্ট্র নীতি কি হবে সেক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারে তেহরানের বিষয়ে বাইরের দেশগুলোর নীতি গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে দেশটিকে একঘরে করে ফেলতে হবে। আর এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর সমর্থন থাকতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি ও আমিরাতে যদি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় তাহলে এর প্রতিক্রিয়া কি হবে? তখন আমরা কিভাবে আত্মরক্ষা করবো? আমি এটা অনুমান করে বলছি তবে এটা আসলেই একেবারে অনুমাননির্ভর নয়। উপসাগরীয় দেশ, ইসরায়েল এবং সংলগ্ন দেশগুলো ইরান কর্তৃক আসন্ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এদিকে আমেরিকা ও তার মিত্রদের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে ইরানকে নরকে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। ইরানের শাসকদের ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
এদিন জাতিসংঘ ৭৩তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানকে একহাত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘বিশৃঙ্খলা, মৃত্যু ও ধ্বংসের’ বীজ বপনের অভিযোগ তোলেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘মিথ্যা, প্রতারণা ও শঠতা’ চালিয়ে গেলে ‘তেহরানের মোল্লাদের খুনি শাসন ব্যবস্থাকে’ গুরুতর পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র বা অংশীদারদের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করলে তাদের অবশ্যই নরকের মূল্য চুকাতে হবে। আমেরিকা ইরানের ওপর নজর রাখছে। তাদের পাকড়াও করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের পেছনে লেগে থাকবে।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বিতর্ক পর্বে তুমুল বিবাদে জড়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে দুর্নীতিবাজ স্বৈরশাসক হিসেবে আখ্যা দেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রুহানি তার ভাষণে তেহরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে অর্থনৈতিক সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যা দেন। সূত্র: আল জাজিরা।