জাতিসংঘ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভেনেজুয়েলা

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের বিতর্কপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নিয়েছে ভেনেজুয়েলা। ৭৩-তম সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটকৌশল কথা প্রকাশ করার সময় এসেছে। বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৭৩-তম সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে মাদুরোর দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় পরিচালিত সংবাদমাধ্যমগুলোর স্থায়ী আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে ভেনেজুয়েলা। তবে বিরোধ থাকার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মাদুরো। এর আগে ট্রাম্পও মাদুরোর সঙ্গে বৈঠকের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। জাতিসংঘের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ইউএন নিউজ থেকে এসব কথা জানা গেছে।

মাদুরো
বুধবার সাধারণ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রাখেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। সেসময় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার জনগণকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাদুরো বলেন, ‘কতিপয় শাসকগোষ্ঠী মহাদেশের ওপর শাসন চালাচ্ছে এবং তাদেরকে পরিচালনা করছে ওয়াশিংটন। এসব শাসকগোষ্ঠী ভেনেজুয়েলার ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়।’ অধিবেশনে মাদুরো অঙ্গীকার করেন, ‘ভেনেজুয়েলা শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে এবং একে দুর্বল করা যাবে না’ এ সত্যটিকে তিনি প্রতিষ্ঠা করবেন।   

গত ৪ আগস্ট কারাকাসে ড্রোন হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনার পেছনেও যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে বলে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছেন মাদুরো। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকেই এর জন্য অর্থায়ন করা হয়েছে। মাদুরো বলেন, ভেনেজুয়েলা সরকারের তদন্তে দেখা গেছে, এ হামলায় লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশের কয়েকজন কূটনীতিক সহযোগিতা করেছিলেন। এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধকে উদ্ধৃত করে মাদুরো বলেন, ‘ওয়াশিংটনের কূটকৌশল’ প্রকাশ করার সময় এসেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

অবশ্য বিরোধ থাকার পরও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মাদুরো। তিনি বলেন, ট্রাম্প ‘ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন’ বলে তিনি শুনেছেন। মাদুরো বলেন, ‘মতভেদ থাকা সত্ত্বেও আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে আমার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই। দ্বিপাক্ষিকভাবে এসব বিষয় আলোচনা করতে চাই।’

মাদুরোর অভিযোগ, তার দেশের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রচারণার নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। মানবিক সংকট ঠেকানোর কথা বলে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকে জোরালো করে তুলতে চাইছে সংবাদমাধ্যমগুলো। ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও এর স্যাটেলাইট মিত্রদের’ এ ধরনের তৎপরতার’ নিন্দা জানান মাদুরো। তার দাবি, এর মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলায় মিথ্যা অভিবাসন সংকট তৈরি করা হচ্ছে, যা মূলত মিডিয়ার রটনা।

সাধারণ অধিবেশনে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্য করে মাদুরো বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যিকারের অভিবাসন সংকট দেখতে চান, তবে মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর পরিস্থিতির দিকে তাকাতে হবে, যেখানে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে দেয়ার নির্মাণের আলোচনা চলছে।’ মাদুরোর দাবি, ভূরাজনৈতিক কারণে তার দেশ হুমকিতে রয়েছে। কারণ ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেল সমৃদ্ধ দেশ। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস ও স্বর্ণও রয়েছে সেখানে। মাদুরোর অভিযোগ, তার দেশ গণতান্ত্রিক বিপ্লব, সামাজিক অধিকার ও দেশের ঐতিহাসিক মূলের ওপর ভিত্তি করে নতুন সমাজ গঠনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রকল্প চালাচ্ছে এবং তা ঠেকাতে অন্য দেশগুলো আগ্রাসন চালাচ্ছে। মাদুরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে বিশ্বকে আদেশ দিচ্ছে যেন বিশ্ব তাদের নিজস্ব সম্পত্তি।