গত চার দশক ধরে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে নতুন এক আফগানিস্তান গড়তে চান আফগানিস্তানের ঐক্য সরকারের প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ। বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এজন্য জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা কামনা করেন তিনি। তালেবানের সঙ্গে আলোচনার এক নজিরবিহীন অধ্যায় শুরু হয়েছে জানিয়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়াসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান আব্দুল্লাহ। জাতিসংঘের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ইউএন নিউজের প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।
বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বিতর্কপর্বে বক্তব্য রাখেন আফগানিস্তানের প্রধান নিবাহী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়া ও আলোচনার পথ তৈরি করে দেওয়ার জন্য সব দেশকে আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াসহ উদ্বিগ্ন রাষ্ট্র ও পক্ষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ তার মতে, সবার সহযোগিতার কারণে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথ খুলে গেছে। আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ‘গত অধিবেশন শেষ হওয়ার পর আফগানিস্তান নতুন এক অধ্যায় শুরু করেছে এবং তালেবানের সঙ্গে নজিরবিহীন আলোচনা শুরু করেছে। আফগানিস্তানের নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ আলোচনা হচ্ছে। আলোচনা ও সমন্বয়সাধনের মধ্য দিয়ে সন্তোষজনক রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো যেতে পারে।’
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সহায়তা করার জন্য পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ।
উল্লেখ্য, নাইন ইলেভেনের হামলার পর ২০০১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরু হয়। কিন্তু ১৭ বছরেও তারা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৪ সালে আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে ওই যুদ্ধ শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এখনও সেখানে রয়ে গেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি আফগান সেনাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে তাদের সেনারা। গত জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক জরিপে বলা হয়,আফগানিস্তানের প্রায় ৭০ ভাগ এলাকায় তালেবানদের তৎপরতা রয়েছে। থেমেই থেমেই আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থাকে তালেবান।
প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধের ইতি টানার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় যেতে চাইছে। সমস্যা হচ্ছে তালেবানদের শর্ত নিয়ে। তালেবান যোদ্ধারা চায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে। আর যুক্তরাষ্ট্র চায়, তালেবান যোদ্ধাদের আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসাতে। আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিষয়ে অনেক আশাবাদ তৈরি হলেও গত ঈদে ঘোষিত অস্ত্র বিরতি চুক্তির সময়ে শান্তি আলোচনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সেই আশা ভেস্তে যায়, তালেবান যোদ্ধারা গজনী আক্রমণ করলে। আফগান বাহিনী ন্যাটো বাহিনীর সহায়তায় প্রবল যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গজনী উদ্ধার করে।