ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে পুলিশ স্টেশনের সামনে বন্দুকধারীর গুলি ও গ্রেনেড হামলায় এক কনস্টেবল নিহত হয়েছে। রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে দক্ষিণ কাশ্মিরের সোপিয়ানে এই হামলা হয়। স্থানীয় সরকার ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ধারাবাহিক হামলার শিকার হচ্ছে কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বন্দুকধারীরা সোপিয়ান পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে মারে এবং গুলি করতে থাকে। সে সময় সাকিব আহমদ মীর নামে ২৩ বছর বয়সী পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় তার। পুলিশের দাবি, হামলার পর বন্দুকধারীরা পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে পালিয়ে গেছে। পরে এলাকাটি ঘেরাও করে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পুলিশের এক মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা সোপিয়ানের পুলিশ স্টেশনে নির্বিচারে গুলি ছুড়েছে। সতর্ক জওয়ানরা সে হামলা প্রতিহত করেছে।’
উল্লেখ্য, কাশ্মির নিয়ে দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধ দীর্ঘদিনের। সেখানকার সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাস পরিক্রমায় ক্রমেই সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামিকীকরণ হয়েছে। এখন সেখানকার বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যে হিজবুল মুজাহিদীন সবচেয়ে সক্রিয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতার থেকে আলাদা করে শনাক্ত করে না। সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। কাশ্মির প্রশ্নে সমগ্র ভারতীয় স্টাবলিশমেন্টের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সেখানকার সমস্যাকে ‘বিচ্ছিন্নতা আর জঙ্গিবাদের’ সমস্যা আকারে দেখা হয়ে থাকে।