ধর্ষণের দায়ে ফরাসি ফটোগ্রাফার আর্নোর দুই বছরের কারাদণ্ড

২০১১ সালের একটি ধর্ষণের ঘটনায় ফরাসি ফটোগ্রাফার জাঁ-ক্লোদ আর্নোকে (৭২) দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সুইডেনের একটি আদালত। তার বিরুদ্ধে যৌন-কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠাকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে ২০১৮ সালের সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ স্থগিত করা হয়। নোবেল বাছাই কমিটি থেকে আর্নোর স্ত্রী কাটারিনা ফ্রস্টেনসনের পদত্যাগের দাবি ওঠার পর সুইডিস অ্যাকাডেমি পুরষ্কারটি স্থগিত করে। এছাড়া আর্নোর বিরুদ্ধে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম ফাঁস করে দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে।

স্ত্রী কাটারিনা ফ্রস্টেইনারের সঙ্গে ফরাসি ফটোগ্রাফার জাঁ-ক্লোদ আর্নো

আর্নোর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় স্টকহোম জেলা আদালত বলেছে, ‘২০১১ সালের ৫ ও ৬ অক্টোবরের মধ্যে একরাতে একটি ধর্ষণের ঘটনায় আসামি দোষী প্রমাণিত হয়েছে।’ রায়ে এই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে জরিমানার অর্থ প্রদানের কথাও বলা হয়েছে। এজন্য আর্নোকে ১২ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এলিজাবেথ মাসি ফ্রিতজের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তার মক্কেল এই রায়ের পর প্রশান্তি পেয়েছেন।

২০১৭ সালের শেষের দিকে একটি সুইডিশ সংবাদপত্রের খবরে ১৮ জন নারীর বিবৃতিসহ অভিযোগ করা হয়, আর্নো তাদের ওপর যৌন নির্যাতন বা হয়রানি চালিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোল হ্যাশট্যাগ মি টু আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আর্নোর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এসব ঘটনা অ্যাকাডেমির ভবনে ও আর্নোর সাংস্কৃতিক ক্লাবে ঘটেছে। ওই সময় আর্নো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আর্নোর স্ত্রী ফ্রস্টেনসন সুইডেনের সাংস্কৃতিক মহলে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি৷ ফরাসি স্বামী আর্নোর সঙ্গে মিলে তিনি একটি সাংস্কৃতিক ক্লাব চালান। ক্লাবটিও সুইডিশ অ্যাকাডেমির কাছ থেকে অর্থসাহায্য পায়৷ তবে ওই খবরের পর প্রবল চাপের মুখে সরকারের পক্ষ থেকে আর্নোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সেখানে সব অভিযোগ বাদ পড়লেও একটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

এই বছরের এপ্রিল মাসে সুইডিশ সাংস্কৃতিক সংগঠনটি একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের কাছে হস্তান্তর করে। একই মাসে সংগঠনটি আর্নোর স্ত্রী ফ্রস্টেইসনকে নোবেল কমিটির ১৮ সদস্যের প্যানেল থেকে বরখাস্ত করার দাবিতে ভোটাভুটি করা হয়।

এসব অভিযোগ নিয়ে দ্বন্দ্বের পাশাপাশি নোবেল বিজয়ীদের নাম ফাঁস করে দেওয়া ঘটনা নিয়ে অ্যাকাডেমিতে ব্যাপক বিভাজন দেখা দেয়। এর ফলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অ্যাকাডেমি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তাদের মধ্যে আর্নোর স্ত্রী কবি ও লেখক কাটারিনা ফ্রস্টেইসন এবং অ্যাকাডেমির প্রধান প্রফেসর সারা দানিয়াস অন্যতম। আসলে সুইডিশ অ্যাকাডেমির সদস্যদের পদত্যাগের কোনও সুযোগ নেই। তাদের আজীবনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তারা অ্যাকাডেমির কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।