ভূমধ্যসাগরে ডুবন্ত নৌকায় ৩৬ ঘণ্টা উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলো যাত্রীরা। কিন্তু সময়মতো না আসায় তাদের অনেকে প্রাণ হারান। এখন পর্যন্ত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে মরক্কো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
স্পেনভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়াকিং বর্ডার্স জানায়, ১২ ঘণ্টা অনবরক সাহায্যের আবেদন করেছেন অভিবাসীরা। একটা সময় ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সময়মতো আসতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে তারা। গ্রেফতার করা হয়েছে নৌকার কিশোর ক্যাপ্টেনকে।
ওয়াকিং বর্ডার্সের পরিচালক ম্যালেনো বলেন, তিনি স্পেন কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার ডুবন্ত ডিঙ্গির কথা জানিয়েছে। জীবনের ঝুঁকিতে থাকা ২৬ জন যাত্রীর কথাও অবগত করা হয়েছিলো।
স্পেনের উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র বলেন, নৌকাটি মরক্কোর সীমান্তে থাকায় তারা মরক্কোকে জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও সাড়া পাননি। তিনি বলেন, নৌকাটি মরক্কো উপকূল থেকে বেশি দূরে ছিলো।
পরে মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১১ টি মরদেহ ছাড়াও ৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু কেন তাদের দেরী হলো সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, তারা বিষয়টি দিয়ে নিশ্চিত নয়। সংস্থাটির মুখপাত্র জোয়েল মিলম্যান বলেন, ওয়াকিং বর্ডার্সের তথ্য নির্ভরযোগ্য।
ম্যালেনো বলেন, তারা ৩২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও দুইজন শিশু নিহত হওয়ার বর পেয়েছেন। অভিবাসীদের উদ্ধার করার ব্যাপারে যথার্থ সমন্বয় ছিলো না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকার আর ইতালির সঙ্গে সীমান্ত থাকার সুযোগে বিপদজনকভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে এই উপকূল ব্যবহার করতে পছন্দ করে শরণার্থী ও অবৈধি অভিবাসন প্রার্থীরা। গত বছর এই পথ পাড়ি দিয়ে ইতালি ও অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার শরণার্থী পৌঁছেছে। এই পথ ব্যবহার করতে গিয়ে চলতি বছরের জুনের প্রথম দিকে তিউনিশিয়া উপকূলে নৌকাডুবে নিহত হয় প্রায় ১১২ শরণার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশী। ফেব্রুয়ারিতে লিবিয়ার পশ্চিম উপকূলে নৌকাডুবে প্রায় ৯০ জন নিহত হয়।