কয়েকদিনের ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে অবশেষে ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি প্রদেশের দুর্গত এলাকায় আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেছে। ইন্দোনেশিয়ার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণকারী বিভাগের কর্মীরা সড়কগুলো পরিষ্কার করে দেওয়ার পর এবং বিদ্যুৎ সংযোগ আবারও সচল হওয়ায় ত্রাণবহর পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে অনেকে। তবে এক সপ্তাহ পর ধ্বংসস্তূপে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার আশা এখন ফিকে। জীবনের সন্ধান পাওয়ার আশায় এতোদিন খালি হাতে কিংবা হালকা যন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হলেও এবার ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। এরইমধ্যে নিশ্চিত প্রাণহানির সংখ্যা ১৫০০ ছাড়িয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়বে।
শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি প্রদেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বড় হতে থাকে মৃত্যুর মিছিল। এক সপ্তাহ পরও চলছে উদ্ধার কার্যক্রম। আন্তর্জাতিকভাবে ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছিলো না। ভূমিকম্পে সুলাবেসির বিমানবন্দরটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জন্য দুর্গতরা মরিয়া হয়ে উঠেছিলো। ক্ষুধার যাতনায় দোকানপাটে লুটপাট শুরু করেছিল তারা।
এরইমধ্যে সড়কগুলো পরিষ্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করেছে জরুরি বিভাগের কর্মীরা। বিদ্যুৎ সংযোগও আবার সচল হয়েছে। আর এর পরপরই দুর্গত এলাকায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেছে। তেরপাল, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জেনারেটরসহ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ২০টি বিমান দুর্গত এলাকায় যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া শুরুতে অন্য দেশের সহায়তা নিতে আগ্রহী ছিল না। দাবি করছিলো, তাদের নিজস্ব সেনাবাহিনীই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবে। তবে ধ্বংসের মাত্রা দেখে বিদেশি সহায়তা গ্রহণে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।
ত্রাণ পৌঁছালেও যতই সময় যাচ্ছে, ততোই ফুরিয়ে যাচ্ছে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা। উদ্ধারকারীরা স্নিফার ডগ ও স্ক্যানার ব্যবহার করে চাপা পড়াদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখন আর প্রাণের স্পন্দন পাচ্ছেন না তারা। ফরাসি উদ্ধারকারীরা জানান, তারা পালুর মেরকিউর হোটেলে বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) সম্ভাব্য জীবনের অস্তিত্ব শনাক্ত করতে পারলেও শুক্রবার (৫ অক্টোবর) তারা আর সাড়া শব্দ পাচ্ছেন না। ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ফায়ার ফাইটার্স-এর প্রেসিডেন্ট ফিলিপ বেসন বলেন, ‘গতকাল আমরা হৃদস্পন্দন পেয়েছিলাম, মনে হচ্ছিলো শ্বাস-প্রশ্বাস আছে। অন্য কোনও নড়াচড়ার শব্দ ছিল না। তাতে আমাদের মনে হলো কেউ হয়তো চাপা পড়া অবস্থায় স্থবির হয়ে আছে। কিন্তু আজ আমরা কোনও সংকেত পেলাম না।
এর আগে কর্তৃপক্ষ ভবনের নিচে আটকা পড়াদেরকে শুক্রবারের (৫ অক্টোবর) মধ্যে উদ্ধারের সময়সীমা দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, এ সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা না গেলে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা একেবারে শূন্যতে নেমে আসবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শুক্রবার আটটি এলাকাকে প্রাধান্য দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারী সংস্থার মুখপাত্র ইউসুফ লতিফ এএফপিকে বলেন, ‘আমাদেরকে এখন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। কারণ খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানো খুব কঠিন।’
দুর্যোগের এক সপ্তাহ পরও ইন্দোনেশিয়ায় থেমে থেমে শক্তিশালী আফটার শক অনুভূত হচ্ছে। আফটার শকের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সপ্তাহে সেখানে ৪২২টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬.৩।