নির্বাচনে পরাজয়কে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট

নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেওয়ার ঘোষণার পরও ফলাফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন। বুধবার দ্বীপ রাষ্ট্রটির সর্বোচ্চ আদালতে অভিযোগ দাখিল করেছেন তার আইনজীবী মোহাম্মদ সালিম। ‘সমর্থকদের কাছ থেকে বিপুল অভিযোগ’ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে মামলা দায়েরের কথা জানান সালিম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে,  মামলায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি ফল বদল চেয়েছেন কিনা তা পরিষ্কার করেননি তার আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই মামলা গ্রহণ করা হবে কিনা বিচারকেরা এখনও সেই সিদ্ধান্ত নেননি।নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন
গত ২৩ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে ভারতের অন্যতম মিত্র ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহর কাছে পরাজিত হন ইয়ামিন। নির্বাচনে ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পান ইব্রাহিম সোলিহ। তার চেয়ে ১৬ শতাংশ কম ভোট পান মালদ্বীপের চীনপন্থী প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছিল। নির্বাচনের একদিন পর পরাজয় মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ইয়ামিন। তবে তারপর থেকেই নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলতে থাকেন তিনি। আগামী ১৭ নভেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের ঘোষণা দেওয়া ইয়ামিন অবশ্য তার দাবির পক্ষে খুব বেশি কোনও প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।

প্রেসিডেন্টের আইনজীবী সালিম সরকার সমর্থক এক টেলিভিশন স্টেশনকে বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া বিপুল অভিযোগ পর্যালোচনা করে শীর্ষ আদালতে ‘সাংবিধানিক মামলা’ দায়ের করেছেন ইয়ামিন। তবে মামলার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

মঙ্গলবারক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ পার্টি অব দ্য মালদ্বীপের (পিপিএম) এক বিবৃতিতে জানায়, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সত্যিকারের বহু উদ্বেগের কারণে পার্টি আদালতের মাধ্যমে আইনের আশ্রয় চাইবে। এসব উদ্বেগের মধ্যে ভোট কারচুপি, জালিয়াতি, অন্যায্য আচরণ ও দুর্নীতি রয়েছে বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়।

অবশ্য এর আগে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। দেশটির নির্বাচন কমিশন দাবি করে ভোটের পর থেকে তাদের কর্মীদের বারবার ফোন কল ও মেসেজের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।  

২৩ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয় পাওয়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সোলিহর মুখপাত্র মারিয়া আহেমেদ দিদি বলেছেন, নির্বাচনের ফলকে ইয়ামিনের অবশ্যই শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। তিনি বলেন, এই বিষয়ে জনগণের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

নিজের গত পাঁচ বছরের মেয়াদে নিজের প্রায় সব রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিকে কারগার বা জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ইয়ামিন। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে চারটি বিরোধী দল মিলে জোট গঠন করে। সেই জোটের প্রার্থী হিসেবে ৫৮ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন সোলিহ। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক বিরোধীদের মুক্তি এবং ইয়ামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন।

বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতা আহমেদ মাহলুফ বলেন, ‘ইয়ামিনের সামনে সুযোগ শেষ হয়ে আসছে। এই মুহূর্তে তিনি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন’। কারণ হিসেবে তিনি বলেন নির্বাচনের সময় থেকে ইয়ামিনের সৎভাই ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ূমসহ শীর্ষ রাজনীতিকরা জামিনে রয়েছেন। বাইরে থাকা বিরোধীরাও দেশে ফিরতে শুরু করেছে বলেও জানান মাহলুফ।