সৌদিতে বিনিয়োগ সম্মেলনে যাচ্ছেন না সিমেন্স প্রধানও

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না জার্মান ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম সিমেন্স এর প্রধান জো কায়সার। তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাশোগির মৃত্যুর ঘটনার জের ধরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।                                           

সিমেন্সের প্রধান জো কায়সারআগামী ২৩-২৫ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান তার দেশে ব্যাপকভাবে বিদেশি পুঁজি আকৃষ্ট করার জন্য ওই সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। ভবিষ্যতে তেলের ওপর সৌদি আরবের নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই মূলত আয়োজন। তবে তুরস্কের ইস্তানবুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে সৌদি সাংবাদিক খাশোগির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশ ও বড় বড় প্রতিষ্ঠান একে একে সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সিমেন্স প্রধানও।

তবে প্রথমদিকে কায়সার বলেছিলেন যে তিনি ‌ ‘দাভোস ইন দ্য সান’ শীর্ষক ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন। কায়সার ছাড়াও ফরাসি বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান জন বার্নার্ড লেভিরও বিনিয়োগ সম্মলেন যোগ দেওয়ার কথা।  তবে সিনিয়র জার্মান রাজনীতিবিদদের চাপের মুখে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন কায়সার। রবিবার সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, কায়সার এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।

সৌদি আরবে বিভিন্ন চুক্তিতে প্রায় ২ হাজার কর্মী রয়েছে সিমেন্সের। সংস্থাটির দাবি, সৌদি আরবের তিন-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎই তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন হচ্ছে। সৌদি আরবের নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০০ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছিলো প্রতিষ্ঠানটিকে।

এরপরও জো কায়সারকে  বিনিয়োগ সম্মেলনে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা অ্যান্দ্রে নাহলেস। এছাড়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসও এক টিভি সাক্ষাতকারে বলেন, সফর বাতিল করায় সৌদি আরবকে সঠিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমি এই মুহূর্তে রিয়াদে কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নিবো না। আর যারা বাতিল করেছেন তাদের সঙ্গে আমার বোঝাপড়াও দারুণ।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নুচিনও পূর্বে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা বললেও পরে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এছাড়া ফিন্যানসিয়াল টাইমস, ব্লুমবার্গ, সিএনএন ও সিএনবিসিও মিডিয়া পৃষ্ঠপোষক থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত জামাল খাশোগি সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার পরিকল্পনার বিরোধী ছিলেন তিনি। এক সময় সংবাদপত্র আল ওয়াতানের সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন খাশোগি। কাজ করেছেন একটি সৌদি টেলিভিশন চ্যানেলেও। ওয়াশিংটন পোস্ট ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানগুলোতে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতেন খাশোগি। সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।