বাহরাইনে এক সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। রবিবার প্যারাগুয়ে সফররত অবস্থায় সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের কাছে এই কথা বলেছেন ম্যাটিস। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তুর্কি বাগদত্তার সঙ্গে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ও স্বেচ্ছানির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। শুরুতে অস্বীকার করলেও ১৯ অক্টোবর সৌদি জানায়, কনস্যুলেটের মধ্যেই গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খাশোগির মৃত্যু হয়। এর দুদিন পরই খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তাদের দাবি ছিল, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভুলবশত তার মৃত্যু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
জিম ম্যাটিস বলেন, শনিবার বাহরাইনে এক সম্মেলনে তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়েরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে তিনি খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আপনারা যা জানেন, আমরা একই বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। তা হলো এই ঘটনার স্বচ্ছতা এবং পূর্ণ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা।’ তিনি আরও বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুবায়ের এই বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত। তিনি বলেছেন, কী ঘটেছে তা আমাদের জানতে হবে আর এটা খুবই সহযোগিতাপূর্ণ হতে হবে। তার সঙ্গে কোনও বিষয়ে দ্বিমত হয়নি।’
এই ঘটনার পর ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তার সহায়তা কমাবে কিনা জানতে চাইলে ম্যাটিস বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার বিষয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখবো।’
শনিবারের ওই সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের জানান, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজনদের সৌদি আরবেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এর আগে খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন ১৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করতে রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তার ওই আহ্বানের জবাবে জুবায়ের বলেন, এই ব্যক্তিরা সৌদি নাগরিক। তারা সৌদিতে আটক রয়েছে। তদন্ত কাজ চলছে এবং সৌদিতেই তাদের বিচার হবে।
একই সম্মেলনে জিম ম্যাটিস বলেছিলেন, খাশোগির হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করেছে। এ খুনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আরও পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইতোমধ্যেই কিছু সৌদি ভিসা বাতিল করেছেন। এর বাইরেও আরও বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।