খুন হওয়া সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে ‘ভয়ঙ্কর ইসলামিস্ট’ উল্লেখ করে তাকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। খাশোগি নিহত হওয়ার পরেই হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ফোনে এসব কথা বলেন তিনি।
২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। ১৯ অক্টোবর মধ্যরাতে প্রথমবারের মতো সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে সৌদি আরব। তবে তারা দাবি করে, সৌদি কর্মকর্তারা খাশোগিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন। তাকে হত্যার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। আর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে দেশটি। তবে সৌদি আরবের এমন দাবি মানছে না তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন ইস্তানবুলের চিফ প্রসিকিউটর।
গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক জন বোল্টনকে দেওয়া ফোনে যুবরাজ বলেন, খাশোগি সন্ত্রাসী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য ছিল।
যুবরাজ সে সময় মার্কিন-সৌদি বন্ধুত্ব রক্ষার জন্য হোয়াইট হাউসকে আহ্বান জানায়।
এদিকে পত্রিকাটিতে এক বিবৃতির মাধ্যমে খাশোগির মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তার পরিবার। তারা জানায়, খাশোগি নিজেও এই বিষয়টি বারবার স্পষ্ট করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসিত জামাল খাশোগি সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার পরিকল্পনার বিরোধী ছিলেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের পর জনসমক্ষে কোনও বক্তৃতা দেননি যুবরাজ। বুধবার বিকালে এক সম্মেলনে প্রথম কথা বললেন তিনি। খাশোগির হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীর সাজা হবেই। তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে। সৌদি আরব ও তুরস্ক একযোগে কাজ করবে।’