যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতানৈক্য, বিবৃতি ছাড়াই শেষ হলো এপেক সম্মেলন

বাণিজ্য প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিভাজনের কারণে শেষ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোর নেতাদের আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি ছাড়াই শেষ হলো এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক জোটের সম্মেলন (এপেক)। বিবৃতি ছাড়া এপেক সম্মেলন শেষ করার ঘটনা এবারই প্রথম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

এপেক নেতারা
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই বিরোধ চলছে। এবার পাপুয়া নিউ গিনিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট এপেকের সম্মেলনেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পাপুয়া নিউ গিনিতে একটি নৌ ঘাঁটি স্থাপনে অস্ট্রেলিয়ার প্রচেষ্টা সঙ্গে যোগ দেবে মার্কিন প্রশাসন। এ নৌ ঘাঁটি নির্মাণকে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব হ্রাসের প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শনিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকা ফার্স্ট নীতিকে ইঙ্গিত করে এ ধরনের বাণিজ্য নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ সংরক্ষণবাদী নীতিকে আলিঙ্গন করেছে তারা ‘ব্যর্থতায় পর্যবসিত’ হবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়ে দিয়েছেন,ওয়াশিংটন নিজেদের বাণিজ্য নীতিতে কোনও পরিবর্তন আনবে না। পেন্স আমদানিকৃত চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক দ্বিগুণ করারও হুমকি দেন।

যুক্তরাষ্ট্র আর চীন শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রশ্নে কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এ অবস্থায় কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান ছাড়াই শেষ হয় এপেক সম্মেলন। সমাপনী বক্তব্যে পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী পিটার ও’নিল বলেন, ২০২০ সাল নাগাদ আঞ্চলিকভাবে ‘অবাধ ও মুক্ত’ বাণিজ্য’ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে এপেক। তিনি বলেন, ‘এ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বড় দুই দেশ’ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এপেকের সভাপতির পক্ষ থেকে পরবর্তীতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হবে বলেও জানান ও’নিল।