শিখ পুণ্যার্থীদের জন্য কর্তারপুর করিডর নির্মাণে সম্মত ভারত ও পাকিস্তান

ভারতের শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য পাকিস্তানে কর্তারপুর গুরুদুয়ারা দরবার সাহিব-এ যাতায়াতের ব্যবস্থা আরও সহজ করতে সীমান্তে নতুন রাস্তা নির্মাণে সম্মত হয়েছে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ। দুই দেশই নতুন করিডর নির্মাণে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। গুরুনানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলো। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নরওয়াল জেলায় রাভি নদীর পাড়ে গুরুদুয়ারা
কর্তারপুর গুরুদুয়ারা দরবার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল জেলায় অবস্থিত। সীমান্ত থেকে একেবারে কাছে এই জায়গা শিখদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র। ভারতীয় শিখরা প্রতিবছর সীমান্ত পেরিয়ে গুরুনানকের হাতে তৈরি এই পবিত্র স্থানে উপস্থিত হন। ১৫২২ সালে এটি তৈরি হয়। জীবনের শেষ ১৮ বছর এখানেই কাটিয়েছেন গুরুনানক। বর্তমানে শিখ তীর্থযাত্রীদের পাকিস্তানে যেতে ভিসা প্রয়োজন হলেও তাতে কোনও বাধা নেই। যে কেউ কর্তারপুরের গুরুদুয়ারায় যেতে পারেন। তার জন্য পাকিস্তান সরকারের বিশেষ অনুমতি লাগে না। শিখরা বছরে চারটি অনুষ্ঠানে কর্তারপুরে যান। তবে এবার শিখদের সারা বছর গুরুদুয়ারায় যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য একটি রাস্তা নির্মাণে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানানো হয়। পাকিস্তান সে আবেদনে সাড়া দিয়েছে।

দিল্লি জানিয়েছে, ভারতের অংশে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মাণে পুরো তহবিল তারা দেবে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারাও একই কাজ করছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী এ সিদ্ধান্তকে দুই দেশের ‘শান্তি স্থাপনজনিত প্রচেষ্টার জয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এ মাসের শেষের দিকে পাকিস্তান তাদের অংশের রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু করবে। তবে ভারতের অংশে কবে কাজ শুরু হচ্ছে তা ঘোষণা করা হয়নি।

করিডোর শুরু হবে গুরুদাসপুরের ডেরা বাবা নানক থেকে। আর শেষ হবে আন্তর্জাতিক সীমান্তে। আর পাকিস্তানের অংশে করিডোর শুরু হবে গুরুদুয়ারা দরবার সাহিব, কর্তারপুর থেকে।