ভারত শাসিত কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর অভিযানে শুক্রবার ছয়জন নিহত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে সেখানে নিহতের সংখ্যা ৪০০-তে পৌঁছেছে। ভারতের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, এ নিয়ে গত এক দশকের মধ্যে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৮ সালে নিহত হয়েছিল ৫০৫ জন।
ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য কাশ্মির। রাজ্যটির অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক ভারতের শাসনের বিরুদ্ধে গেরিলা সংগ্রামে লিপ্ত। জম্মু ও কাশ্মিরে প্রাণঘাতী সহিংসতা ২০১২ সালে কমে যায়। ওই বছরে নিহত হয় ৯৯ জন। তবে তারপর থেকেই তা বাড়ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, কাশ্মির উপত্যকার অভ্যন্তরের বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং যারা পাকিস্তান সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ জোরালো করেছে ভারতের সেনাবাহিনী। বিগত কয়েক মাসে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর স্বজনদের অপহরণ করে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
স্বাধীনতাপন্থী আন্দোলনকামীদের সহিংসতাপ্রবণ অঞ্চল দক্ষিণ কাশ্মির। সম্প্রতি স্বাধীনতাকামীরা সেখানে ছয় ব্যক্তিকে অপহরণ করে। এদের মধ্যে চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি দুজনকে ভারতীয় বাহিনীর চর আখ্যা দিয়ে হত্যা করে। তাদের গুলি করার ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এরপর ওই অঞ্চলে অভিযান জোরালো করে ভারতের সেনাবাহিনী।
পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই কাশ্মিরকে নিজেদের বলে দাবি করে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর দুই প্রতিবেশীর তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি সংঘটিত হয়েছে কাশ্মির ইস্যুতে। এক সামরিক নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে কাশ্মিরকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। ভারতের শাসনে রয়েছে ৪৫ শতাংশ এলাকা ও এক কোটি দশ লাখ মানুষের বসতি। আর পাকিস্তান শাসন করে ৩৫ শতাংশ অঞ্চল। আর বাকি অঞ্চল শাসন করে চীন।