আন্তঃকোরীয় রেলপথ প্রকল্পে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

আন্তঃকোরীয় রেলপথ চালুর জন্য যৌথ জরিপ চালানোর বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ১৯৫০-৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের সময় থেকে দুই দেশের মধ্যে রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ওই যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে এই যৌথ জরিপকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ চালু করা যাচ্ছিল। শনিবার ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা নিশ্চিত করে দক্ষিণ কোরিয়া।

https_%2F%2Fs3-ap-northeast-1.amazonaws.com%2Fpsh-ex-ftnikkei-3937bb4%2Fimages%2F2%2F9%2F6%2F7%2F16837692-1-eng-GB%2FRTR1DBUL

গত এপ্রিল মাসে দুই কোরিয়ার নেতাদের নিজেদের মধ্যে রেলপথ ও সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করার বিষয়ে একমত হয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নের স্বার্থে তারা এই উদ্যোগ নেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কিম ইউই কিয়োম বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিশাল অন্তর্নিহিত অর্থ রয়েছে। এতে বোঝা যায়, এই প্রকল্পটি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বীকৃতি ও সমর্থন পেয়েছে। তিনি দ্রুত এই রেলপথ নির্মাণের আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটা আন্তঃকোরীয় সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

পরমাণু অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর বিশাল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে জাতিসংঘ। দক্ষিণ কোরীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের খবরে বলা হয়, এই রেলপথ জরিপের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নভেম্বর মাসের শেষ দিকে ও ডিসেম্বরের শুরুতে পরিবহণ পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি যৌথ সমীক্ষা চালানোর বিষয়ে গত অক্টোবরে একমত হয় দুই কোরিয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সংলাপ স্থবির হয়ে যাওয়ায় ওই পরিকল্পনা বিলম্বিত হচ্ছে।

গত জুন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরীয় নেতা কিম জং উন সিঙ্গাপুরে বৈঠক করেন। তারা উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে ওই আলোচনার খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র শর্ত দিয়েছে যে, পরমাণু অস্ত্র পরিত্যাগ করার পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার ওপর বিদ্যমান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়াকে বলেছে, পরমাণু অস্ত্র পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বেশি দ্রুত উন্নত করার উচিত হবে না।