নিউ জিল্যান্ডের সমুদ্র সৈকতে ১৪৫ তিমির মৃত্যু

নিউ জিল্যান্ডের স্টুয়ার্ট আইল্যান্ড উপকূলে আটকে পড়ে অন্তত ১৪৫টি পাইলট তিমি মারা গেছে। শনিবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ম্যাসন বে সমুদ্র সৈকত দিয়ে হেঁটে আসার সময় এক পথচারী তিমিগুলোকে শনাক্ত করেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেই তারা অর্ধেক সংখ্যক তিমিকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। বাকি অর্ধেক সংখ্যক তিমির অবস্থাও এতোটা গুরুতর ছিল যে শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো যায়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

সমুদ্র সৈকতে আটকে পড়ে ১৪৫ তিমির মৃত্যু
বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সাউথ আইল্যান্ডের স্টুয়ার্ট আইল্যান্ডের প্রত্যন্ত সৈকত এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার ব্যবধানে তিমিগুলোর দুটি দল আটকা পড়েছিল। আঞ্চলিক প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের (ডিওসি) ভাষ্য অনুযায়ী, নিউ জিল্যান্ডের সৈকতে তিমির আটকা পড়ার ঘটনা বিরল নয় এবং প্রতি বছর এ ধরনের প্রায় ৮৫টি ঘটনা ঘটে থাকে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি মাত্র তিমিকেই আটকা পড়ে থাকতে দেখা যায়, এরকম পুরো দলকে নয়। 

আঞ্চলিক প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের (ডিওসি) বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দুঃখজনক বিষয় হলো, বেঁচে থাকা অবশিষ্ট তিমিগুলোকে সফলভাবে সাগরে পাঠানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ ছিল। দুর্গম এলাকা, আশেপাশে মানুষ না থাকা এবং তিমিগুলোর অবস্থার অবনতি হওয়াজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সেগুলোকে মরতে দেওয়াই বেশি মানবিক। অবশ্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হওয়ার ব্যাপারটি আমাদের কাছে সব সময়ই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।’

কী কারণে তিমি ও ডলফিনরা সৈকতে উঠে আসে তা পুরোপুরি জানা যায়নি বলে উল্লেখ করেছে আঞ্চলিক প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। অসুস্থতা, পথ ভুল করা, জোয়ারের মধ্যে পড়া ও শিকারির ধাওয়াকে সম্ভাব্য কারণ বলে বিবেচনা করা হয়।