জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম গ্রাম তাকাচিহোর একটি খামার বাড়ি থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন একই পরিবারের সদস্য। সোমবার (২৬ নভেম্বর) জাপানের তদন্ত পুলিশ মৃতদেহগুলো শনাক্ত করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নিহতদের কয়েকজনের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সোমবার (২৬ নভেম্বর) মিয়াজাকি প্রদেশের তাকাচিহো এলাকার নদী থেকেও একটি মৃতদেহ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
জাপানে গণহারে হত্যার ঘটনা খুব বিরল। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের দিক দিয়ে জাপানকে বিশ্বের নিরাপদ দেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন জারি থাকার কারণে তা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে তারপরও হঠাৎ হঠাৎ ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। ২০০১ সালে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি ওসাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয় থেকে আট বছর বয়সী আট শিশুকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন। ২০০৮ সালে এক ব্যক্তি ট্রাক নিয়ে টোকিওর ব্যস্ত একটি সড়কে হামলে পড়েছিল এবং এলোপাতাড়ি ছুরি চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রাণ হারাতে হয় সাতজনকে। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে টোকিওর দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি এলাকায় অবস্থিত একটি প্রতিবন্ধী সুরক্ষা কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ১৯ জনকে হত্যা করে এক ব্যক্তি।
সোমবার (২৬ নভেম্বর) আবারও গণহারে হত্যার ঘটনা ঘটেছে সন্দেহ করা হচ্ছে। এদিন একটি বাড়ির সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ ও ভেতর থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে তিনজনের নাম প্রকাশ করেছে পুলিশ। তারা হলেন, ওই বাড়ির মালিক ৭২ বছর বয়সী কৃষক ইয়াসোয়ু ইহোসির ৬৬ বছর বয়সী স্ত্রী মিহোকো ইহোসি, তাদের নাতনি ইয়ুই এবং পরিবারটির পরিচিত ফুমিয়াকি মাতসৌকা (৪৪ বছর)। অপর তিনজনের নাম জানা যায়নি। ওই তিনটি মরদেহের মধ্যে দুইটি পুরুষের ও একটি নারীর।
জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োডোকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান জানায়, পরিবারটির এক আত্মীয় তাদেরকে ফোন করে সাড়া না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। গণহারে এ হত্যা ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দেরকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
একইদিনে তাকাচিহো নদী থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, পার্শ্ববর্তী ব্রিজ থেকে তিনি পড়ে গিয়েছেন অথবা ঝাঁপ দিয়েছেন।