চীনে এবার পুরস্কারজয়ী ফটোগ্রাফার নিখোঁজ, স্ত্রীর দাবি আটক

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে নিখোঁজ হয়েছেন এক আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ফটোগ্রাফার। গত ৩ নভেম্বর লু গুয়াং নামের ওই ফটোগ্রাফারের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ করতে পারার কথা জানিয়েছেন তার স্ত্রী জু জিয়াওলি। তার আশঙ্কা তিন বার ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো অ্যাওয়ার্ড জয়ী এই ফটোগ্রাফারকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা আটক করেছেন। তবে চীনের তরফে তাকে আটকের কথা স্বীকার করা হয়নি। এর আগে গত অক্টোবরে ফ্রান্সের লিও শহর থেকে চীনে ফেরার পর নিখোঁজ হন আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের তৎকালীন প্রধান মেং হংউই। বেশ কয়েকদিন পরে তাকে আটকের কথা স্বীকার করে চীনা কর্তৃপক্ষ। আটকাবস্থাতেই ইন্টারপোল থেকে পদত্যাগ করেন মেং হংউই।চীনের ফটোগ্রাফার লু গুয়াং

ফটোগ্রাফার হিসেবে লু গুয়াংয়ের ২৫ বছরের ক্যারিয়ার। এই সময়ে তিনি বহু পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি তুলেছেন। চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্ধকার দিক, সামাজিক পরিবর্তন, শিল্প দূষণ, শ্রমিক নিপীড়ন, এইডস জর্জরিত গ্রাম ও চীনে আফ্রিকার কাঠের অবৈধ পাচারকে উপজীব্য করে ছবি তুলে থাকেন তিনি।

এই ফটোগ্রাফার যে প্রদেশে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছেন সেই জিনজিয়াংয়ে সংখ্যালঘু উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম গোষ্ঠীগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও গণগ্রেফতার নিয়ে বিদেশি সরকার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও অ্যাকটিভিস্টদের সমালোচনার মুখে রয়েছে বেইজিং। চীনা কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবেই নৃতাত্ত্বিক ও অন্যান্য ধর্মীয় নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে বলে আসছে ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণের জন্যই তারা পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।

ফটোগ্রাফার লু গুয়াংয়ের নিখোঁজের বিষয়ে জু জিয়াওলি অনলাইনে এক পোস্টে জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ দিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমকিতে এক ফটোগ্রাফি বিষয়ক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন তার স্বামী। গত ৩ নভেম্বর একাই দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খাসগার পরিদর্শনের সময় সর্বশেষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন জু। তারপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।  টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমি মারাত্মক ভয়ে আছি, আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষা করছি’।

টুইটারে জু জানান, ৫ নভেম্বর জিনজিয়াং থেকে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশে যেতে চেয়েছিলেন লু গুয়াং। সঙ্গে বন্ধু রেনদেজভোস যাওয়ার কথা থাকলেও তার সঙ্গে সাক্ষাৎই হয়নি লু গুয়াংয়ের।

স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে লু গুয়াংকে জিনজিয়াংয়ে আমন্ত্রণ জানানো ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন  জু। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে তাকে জানানো হয় দুজনকেই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তুলে নিয়ে গেছেন। তবে তাকে আটকের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে জিনজিয়াংয়ের আঞ্চলিক সরকার।

জু দাবি করেছেন, লু গুয়াংয়ের নিজের শহর ঝেজিয়াং প্রদেশের ইয়োংক্যাংয়ের কর্তৃপক্ষ তার স্বামীকে আটকের কথা নিশ্চিত করেছে। তবে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা নেই বলে দাবি করেছে ইয়োংক্যাং পুলিশ। বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং সুয়াং বলেছেন, এই ঘটনা সম্পর্কে জানা নেই তার।

বর্তমানে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত জু ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি একা একাই খাসগার গিয়েছিলেন। পরে তিনি এবং তার বন্ধু দুজনকেই তুলে নেওয়া হয়। এক অনলাইন পোস্টে জু বলেন, ‘আগামী ৪ ডিসেম্বর আমাদের ২০তম বিয়ে বার্ষিকী। তিনি দিনটি একসঙ্গে উদযাপন করতে চেয়েছিলেন। যখন থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে তখন থেকেই আমার দিনগুলো মনে হচ্ছে বছরের সমান’।