রুটির মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে সুদানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছে হাজার হাজার মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে বুধবার নীল নদ প্রদেশের আতবারা শহরে ক্ষমতাসীন দলের সদর দফতরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে সেদিনই প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জরুরি অবস্থার মধ্যে বৃহস্পতিবার শহরটিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েছে পুলিশ। এছাড়াও আরও কয়েকটি শহরে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেছে বাসিন্দারা।
চলতি বছর রুটির ওপর ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় সুদান সরকার। এই ঘোষণার পর রুটির মূল্য দ্বিগুণ হয়ে গেলে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বাধ্য হয়ে গত নভেম্বরে আটার ওপর ৪০ শতাংশ ভর্তুকি বাড়ায় সরকার। সম্প্রতি সরকারের ভর্তুকি পাওয়া রুটি ও জ্বালানি তেলের ব্যাপক সংকট দেখা দিলে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের বেকারি ও পেট্রোল পাম্পে লাইন দিতে বাধ্য হয় মানুষ।
১ পাউন্ডের রুটির দাম বেড়ে তিন পাউন্ডে পৌঁছানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন নীল নদ প্রদেশের গভর্নর হাতেম আল ওয়াসিল্লাহ। তিনি বলেন, প্রদেশে ভর্তুকির আটার সংকটের কারণেই রুটি দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সহিংস ও ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। বুধবার আতবারায় ক্ষমতাসীন দলের সদর দফতর, স্থানীয় সরকারের কার্যালয় ও একটি পেট্রোল পাম্প পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ওয়াসিল্লাহ বলেন, ‘আমরা প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও কার্ফু জারি করে শহরের স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছি’। আতবারা ছাড়াও বুধবার বিক্ষোভ হয়েছে লোহিত সাগর প্রদেশের রাজধানী বন্দর সুদানে।
জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার আতবারা শহরের রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার সময়ে তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের কথা রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। এছাড়া দোঙ্গালা ও আল কাদারিফ শহরেও এদিন বিক্ষোভ হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩৬ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে বলেছেন, আতবারায় জীবনযাপন থমকে যাওয়ায় তিনি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। চারদিন ধরে দোকানে না পাওয়া যাওয়ায় রুটি কিনতে পারেননি তিনি। ওই বিক্ষোভকারী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য বেড়েছে অথচ তারল্য সংকটের কারণে আমি এখন পর্যন্ত নভেম্বর মাসের বেতন তুলতে পারিনি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা বাঁচতে পারছি না আর সরকার এনিয়ে কোনও পাত্তা দিচ্ছে না’।