নওয়াজের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাগশিপ ও আজিজিয়া দুর্নীতি মামলার রায় আজ

পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে আলোচিত ফ্ল্যাগশিপ ইনভেস্টমেন্ট ও আল আজিজিয়া স্টিল মিল দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের অ্যাকাউন্টেবিলিটি আদালত নওয়াজের বিরুদ্ধে রায় দেবে। রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে রবিবার সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী লাহোর থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। সোমবারের শুনানিতে তার উপস্থিত থাকার কথা। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে নওয়াজের সদস্যরা
লন্ডনে কেনা বিলাসবহুল চারটি ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধে দেওয়া অর্থের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে ৬ জুলাই নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় পাকিস্তানের আদালত। তার মেয়ে মরিয়মকে দেওয়া হয় ৭ বছরের কারাদণ্ড। মরিয়মের স্বামী ও নওয়াজের মেয়ের জামাই অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ সফদরকেও আদালত এক বছরের সাজা দিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে নিম্ন আদালতের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ। মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ৫ লাখ রুপিতে নওয়াজ ও তার পরিবারের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। এবার অন্য দুই দুর্নীতি মামলায় নওয়াজের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ ও আল আজিজিয়া দুর্নীতি মামলায় নওয়াজের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে তাতে বিলম্ব হচ্ছে। ঠিক কোন সময়ে অ্যাকাউন্টেবিলিটি আদালতে রায় ঘোষণা করা হবে সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

দলের শীর্ষ নেতা নওয়াজের প্রতি সমর্থন জানাতে সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভীড় জমিয়েছেন পিএমএল-এন কর্মীরা। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালতের দিকে যাওয়ার রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও রেঞ্জারের সদস্যদের। 

অ্যাকাউন্টেবিলিটি আদালতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রেজিস্ট্রারের অনুমতি না পাওয়া ব্যক্তিদের কেউই সোমবার শুনানিতে অংশ নিতে পারবে না। পিএমএল-এন নেতা আহসান ইকবাল, মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হাশমি সোমবার আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন এবং তাদেরকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসিসহ অন্য নেতারা প্রবেশের অনুমতি পাননি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল দুনিয়ার প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাঘববোয়ালদের আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস করে সাড়া ফেলে দেয় আলোচিত ‘পানামা পেপারস’। ফাঁস হওয়া ওই গোপন নথিতে অর্থ পাচারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলের নাম উঠে আসায় নিজ দেশে চাপের মুখে পড়েন তিনি। বিরোধী দলগুলো থেকে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে অবৈধ বিনিয়োগের অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। পানামা পেপারস প্রকাশের পর বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), জামায়াতে ইসলামিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত দেয় আদালত। ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেন নওয়াজ শরিফ। আর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের সমস্ত সম্পত্তি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার সুপারিশ করা হয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নওয়াজ শরিফের পরিবারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো। এর মধ্যে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে অ্যাভেনফিল্ড দুর্নীতি মামলায় রায় প্রদান করলেও অন্য দুই মামলার শুনানি থেকে নিজেকে বিরত রাখেন বিচারপতি মোহাম্মদ বশির। পরে এ দুই মামলা বিচারপতি আরশাদ মালিকের আদালতে পাঠানো হয়।