২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। মঙ্গলবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে রাজধানী খার্তুমের কেন্দ্রস্থলে নীল নদের তীরে অবস্থিত বশিরের প্রাসাদ অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়া কয়েক হাজার মানুষের ওপর টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েছে পুলিশ। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তবে পুলিশের হাতে অন্তত ৩৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট পাওয়ার দাবি করেছে মানবাধিকার গ্রুপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, পদত্যাগের বিষয়ে কোনও ঘোষণা না দিলেও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বশির।
চলতি বছর রুটির ওপর ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে সুদানে রুটির মূল্য দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর জেরে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলে। বাধ্য হয়ে গত নভেম্বরে আটার ওপর ৪০ শতাংশ ভর্তুকি বাড়ায় সরকার। সম্প্রতি সরকারের ভর্তুকির আটা ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বিক্ষোভ শুরু হয়। সগত সপ্তাহে আতবারা শহরে ক্ষমতাসীন দলের সদর দফতরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের পর জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করেও সেখানে রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা।
খার্তুম থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হিবা মরগান জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে বিক্ষোভাকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্রেসিডেন্টের ওপর পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। মঙ্গলবার খার্তুমে বিক্ষোভের ডাক দেয় সুদানের পেশাজীবীদের অ্যাসোসিয়েশন। তাতে সমর্থন জানায় দেশটির অন্যতম প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল উম্মাহ পার্টি। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ অভিমুখে মিছিল নিয়ে তার পদত্যাগের আহ্বান সম্বলিত স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিক্ষোভকারীরা। দেশাত্মবোধক গান ও প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দিতে দিতে প্রাসাদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। তবে তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও তাজা গুলি ছোঁড়ে পুলিশ। তবে তা সত্ত্বেও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে তারা।
১৯৮৯ সালে এক সামরিক অভুত্থানে সুদানের ক্ষমতায় আসেন প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির। সাবেক এই সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে দারফুরে বেসামরিক মানুষের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। প্রথম ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। রাশিয়া, চীন, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও জোট এই পরোয়ানার বিরোধিতা করে থাকে। আট বছরেরও বেশি সময় ধরে বশিরকে গ্রেফতার করে হগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হাজির না করা যাওয়ায় তার বিচার শুরু করা যায়নি।
গত ২৭ বছরের মধ্যে নিজ দেশে অন্যতম বড় বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন ওমর আল বশির। রুটির দাম বৃদ্ধি ঘিরে গত সপ্তাহে বিক্ষোভ শুরুর পর সোমবার প্রথমবারের মতো ‘সত্যিকার সংস্কারের’ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তবে সংস্কারের বিস্তারিত কিছু না জানালেও রাষ্ট্রীয় সুদান বার্তা সংস্থা তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকেরা উপযুক্ত জীবন যাপন করতে পারবে। দেশের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির জন্য বিক্ষোভকারীদের দায়ী করে তাদের সতর্ক করে দেন তিনি।
মঙ্গলবারের বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা জানা যায়নি। বিক্ষোভের জন্য উস্কানিদাতাদের দায়ী করেছে দেশটির কর্মকর্তারা। দেশটির বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সুদানিয়া ২৪ জানিয়েছে অন্তর্ঘাতমূলক অপরাধে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এক সপ্তাহের সরকারি বিরোধী বিক্ষোভে ১২ জন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে দেশটির কর্মকর্তারা। সোমবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, পুলিশের হাতে অন্তত ৩৭ জন নিহতের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছে তারা।
বিক্ষোভের কারণে কয়েকটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও কার্ফু জারি রয়েছে। এছাড়া বন্ধ রাখ হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।