দুই সপ্তাহ ধরে মেঘালয়ের কয়লা খনিতে আটকা ১৫ শ্রমিক

১৩ দিন ধরে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের একটি কয়লা খনির গভীরে আটকা পড়ে রয়েছেন ১৫ শ্রমিক। পাশে থাকা একটি নদী ও অপর একটি খনি থেকে সেখানে প্রতিনিয়ত পানি ঢুকতে থাকায় তাদের বেঁচে থাকার আশা ক্রমশ কমে আসছে। অবৈধ ওই খনিটিতে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের নিরাপদে উদ্ধার করতে এখন অলৌলিক কোনও কিছুর প্রত্যাশা করছে মেঘালয়ের রাজ্য সরকার।মেঘালয়ের খনিতে আটকা পড়ে রয়েছে ১৫ শ্রমিক
পুরনো এই খনিটি থেকে কয়লা আহরণ অবৈধ। ‘র‍্যাট হোল’ খনি নামে পরিচিত এ ধরণের খনি মেঘালয়ে অনেক রয়েছে। এসব খনি থেকে কয়লা আহরণ বিপদজনক। তবুও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী কর্মীদের মাটির শত শত ফুট নিচে পাঠিয়ে কয়লা আহরণ করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

১৩ ডিসেম্বর মেঘালয়ের খনিটিতে কাজ করতে যান ওই ১৫ শ্রমিক। তখন থেকেই মাটির নিচে আটকা পড়ে রয়েছেন তারা। খনিতে আটকা পড়া শ্রমিকদের মধ্যে সাতজন মেঘালয়ের পশ্চিম গারো পার্বত্য জেলার, পাঁচজন আসামের ও বাকি তিনজন প্রত্যন্ত লুমথারি গ্রামের বলে জানিয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ।

ভারতের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনীর (এনডিআরএফ) প্রায় শতাধিক সদস্য খনি এলাকায় অবস্থান করছেন। দলটির কমান্ডার এসকে শাস্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ব্যহত হচ্ছে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, সেচ দিয়ে খনি থেকে বাইরে পানি ফেলা শুরু করলেও পাশের নদী ও খনি থেকে তা ভরাট হতে থাকায় রবিবার উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে মেঘালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী কিরমন শিল্লা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, একমাত্র ঈশ্বরের আশীর্বাদ ও অলৌকিক কিছুই তাদের বেঁচে ফিরে আসতে সাহায্য করতে পারে। আটকা পড়া এসব শ্রমিকদের উদ্ধার করতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পানি নিস্কাশনের জন্য উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।