ভারতে জাল মুদ্রা, এক বাংলাদেশির খোঁজে কর্তৃপক্ষ

দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের ত্রিশুর এলাকা থেকে ভারতীয় জাল মুদ্রা জব্দের ঘটনায় তদন্ত করছে দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। ওই ঘটনায় আলিম শেখ নামের সন্দেভাজন এক ব্যক্তিকে খুঁজে বের বের করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে এসব জাল মুদ্রা পাচার করেছিল আলিম শেখ।

nonameএ ঘটনায় বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা আলিম শেখ’কে খুঁজে বের করতে বিদেশি এজেন্সির সহায়তা চাইবে তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।

২০১৮ সালে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আলী হোসেনের কাছ থেকে দুই হাজার রুপি মূল্যের দুটি ভারতীয় জাল নোট উদ্ধার করে পুলিশ। ত্রিশুরের একটি টেক্সটাইলের দোকানে বিনিময়ের চেষ্টার সময় নোটগুলো পুলিশের হাত ধরা পড়ে।

পরে পলক্কাদ এলাকার মুদাপ্পালুরে আলী হোসেনের ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০১টি জাল নোট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জাল নোটগুলো ছিল যথেষ্ট মানসম্মত। পরে মামলাটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ’র কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্ত চলাকালে দেখা যায়, জাল নোটগুলো বাংলাদেশ থেকে ভারতের কেরালায় পাচারে আলিম শেখের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

সূত্র জানিয়েছে, মামলার দ্বিতীয় আসামি হিসেবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এনআইএ’র আদালত তার বিরুদ্ধে অ-জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই পরোয়ানার ফলে তাকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ইন্টারপোল বা বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে। আলিম শেখ ছাড়াও এ ঘটনায় আরও দুইজনের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পেয়েছে এনআইএ। জাল নোট চোরাচালানে তাদের ভূমিকা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তদন্তে দেখা গেছে, আলিম ও তার বন্ধু সাদিকুল; আলী হোসেনের ভাড়া বাসায় গিয়ে কেরালায় জাল মুদ্রা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা এমন স্থানগুলোও চিহ্নিত করে যেখানে লেনদেনের জন্য জাল মুদ্রা ব্যবহার করা যেতে পারে।

জুলাইয়ে কেরালা ছাড়ার পর ১২ আগস্ট আকতারুল নামের আরেক বাংলাদেশিকে সঙ্গে ভারতে যায় আলিম। ভারত যাওয়ার সময় তারা সঙ্গে করে জাল রুপি নিয়ে যায়। ১৯ আগস্ট তারা জাল নোট লেনদেনের জন্য ত্রিশুরে যায়।

আলী হোসেন একটি টেক্সটাইল দোকানে জাল নোট ব্যবহার করতে গেলে বাইরে অবস্থান করে অন্য দুজন। তবে আলী হোসেন পুলিশের হাতে ধরা পড়লে বাকি দুজন পালিয়ে যায়। সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।