পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, ভেনেজুয়েলা সংকট মধ্যস্ততায় সম্মত আছেন তিনি। তবে এজন্য দুই পক্ষেরই সম্মতি থাকতে হবে বলে শর্ত দিয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুইদোকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো।এদিকে ভেনেজুয়েলায় আগাম নির্বাচনের জন্য মাদুরোর ওপর চাপ প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে আঞ্চলিক দেশগুলোর জোট লিমা গ্রুপের অধিকাংশ সদস্য। মাদুরো আলোচনার পথে সংকট সমাধানে রাজি থাকলেও গুইদো স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, মাদুরোর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনায় রাজি নন তিনি।
গত জানুয়ারির নির্বাচনে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। কিন্তু বিরোধী দলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ওই নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দেয়। নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। আর ব্যাপক এই বিক্ষোভের জেরেই গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। পোপের দেশ আর্জেন্টিনা এরইমধ্যে বিরোধী নেতা গুইদোকে সমর্থন দিয়েছে। মাদুরো আর গুইদো দু'জনের পক্ষ থেকেই সংকট মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিতে পোপের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তবে মাদুরো সংকট নিরসনে আলোচনার ডাক দিলে পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচনার একমাত্র শর্ত মাদুরোর পদত্যাগ।
মাদুরোর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই তৎপর যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেনসহ অপরাপর ইউরোপীয় দেশগুলো ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদোকেই দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। এরইআগে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নতুন নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছিল তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আল্টিমেটামকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়েছিলেন মাদুরো।
সোমবার ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, পোপকে লেখা চিঠিতে তিনি তাকে সংলাপের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে নিজেকে যীশু খ্রিস্ট দ্বারা অনুপ্রাণিত হিসেবে আখ্যায়িত করেন ৭০ শতাংশ ক্যাথলিক খ্রিস্টান অধ্যুষিত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। টেলিভিশন চ্যানেল স্কাই টিজি২৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, পোপের কাছ থেকে তিনি ইতিবাচক সাড়া প্রত্যাশা করছেন।
আবু ধাবি থেকে দেশে ফেরার পথে পোপ সাংবাদিকদের জানান, মাদুরো তাকে চিঠি লিখেছেন। তবে চিঠিটি তিনি এখনও পড়েননি। সংকটে মধ্যস্ততার প্রস্তাবে সাড়া দেবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে পোপ বলেন, 'আমি চিঠিটি পড়ব, এবং ভেবে দেখব কী করা যায়। তবে অবশ্যই দুই পক্ষেরই সম্মতি থাকতে হবে।'
মেক্সিকো আর উরুগুয়ের পক্ষ থেকেও দুই পক্ষকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে কোনমতেই মাদুরোর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনায় রাজি নন।