সন্ন্যাসীদের ওপর ধর্মযাজকদের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মুখ খুললেন পোপ

পোপ ফ্রান্সিস স্বীকার করেছেন, রোমান ক্যাথলিক গির্জার ধর্মযাজক ও বিশপদের হাতে সেখানকার সন্ন্যাসীরা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তার আশঙ্কা, ক্যাথলিক গির্জায় এ ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনা এখনও চলছে এবং তা স্থায়ী সমস্যায় রূপ নিয়েছে। পোপ জানান, এ ‘কেলেঙ্কারি’র ব্যাপারে গির্জা কর্তৃপক্ষ অবগত আছে এবং ব্যবস্থা নিচ্ছে। কয়েকজন ধর্মগুরুকে এরইমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রোমে ফেরার সময় বিমানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ফ্রান্সিস। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ক্যাথলিক গির্জায় যাজকদের হাতে সন্ন্যাসীদের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঘটনায় এটিই পোপের প্রথম প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি।

পোপ ফ্রান্সিস
গত কয়েক বছর ধরে ভারত, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ইতালির ক্যাথলিক সন্ন্যাসীরা ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করে আসছেন। সবশেষ গত সপ্তাহে বেশ কয়েকজন সন্ন্যাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্যাটিকান ম্যাগাজিন ‘উমেন চার্চ ওয়ার্ল্ড’ এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সন্ন্যাসীদের কেউ কেউ ধর্মযাজকদের সন্তানকে জন্ম দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ গর্ভপাত করতে বাধ্য হয়েছেন যা ক্যাথলিকবাদে নিষিদ্ধ। পোপ ফ্রান্সিসকে এতোদিন এ ইস্যু নিয়ে প্রকাশ্যে কখনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। তবে মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে রোমে ফেরার পথে বিমানে সংবাদ সম্মেলন করেন ফ্রান্সিস। সেসময় সাংবাদিকরা ধর্মযাজকদের হাতে সন্ন্যাসীদের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে তার কাছে জানতে চান।

জবাবে পোপ বলেন, ‘এটা সত্যি। ধর্মযাজক ও বিশপদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এ কাজ করেছে।’

ফ্রান্সিস জানান, গির্জা কর্তৃপক্ষ সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছে তবে ‘এ ধরনের ঘটনা এখনও ঘটছে।’ তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এ ব্যাপারে আরও বেশি কিছু করার আছে কিনা? জবাবে হ্যাঁ সূচক উত্তর দেন ফ্রান্সিস। বলেন, ‘আমাদের কি ইচ্ছা আছে? হ্যাঁ আছে। তবে এরইমধ্যে সে পথ অবলম্বন করা শুরু করেছি আমরা।’

সন্ন্যাসীদের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ব্যাপারে মন্তব্য না করলেও এর আগে বিভিন্ন সময়ে ক্যাথলিক ধর্মগুরুদের হাতে শিশুদের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া নিয়ে কথা বলেছেন ফ্রান্সিস। ২০১৭ সালে‘ফাদার,আই ফরগিভ ইউ: অ্যবিউজড বাট নট ব্রোকেন’ শিরোনামে লেখা একটি বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন ফ্রান্সিস। সেখানে ক্যাথলিক ধর্মগুরুদের হাতে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে যাজকদের অস্বাভাবিক বিকৃতি বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, এটা চার্চের শিক্ষার বিপরীত। একটা ভয়ঙ্কর পাপ। বইটি লিখেছেন সুইস নাগরিক ড্যানিয়েল পিটেট। আট বছর বয়সে তিনি প্রথম একজন যাজকের হাতে ধর্ষণের শিকার হন।