থাই রাজকন্যা উবলরত্ন সিরিভাদানা বারনাভাদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দানকারী দলকে নিষিদ্ধ করতে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। স্রিসুয়ান জানিয়া নামের এক অ্যাক্টিভিস্ট জানিয়েছেন, থাই রাকসা চার্ট পার্টিকে ভেঙে দিতে সাংবিধানিক আদালতে সুপারিশ করার জন্য নির্বাচন কমিশনে পিটিশন দায়ের করবেন তিনি। ওই অ্যাক্টিভিস্টকে উদ্ধৃত করে রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে।
৬৭ বছর বয়সী উবলরত্ন বর্তমান থাই রাজা ভাজিরালংকর্ন-এর বড় বোন এবং প্রয়াত রাজা ভূমিবলের বড় মেয়ে। মার্চে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) উবলরত্নের নাম ঘোষণা করে থাই রাকসা চার্ট পার্টি। এর প্রতিক্রিয়ায় থাই রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে রাজা মহা ভাজিরালংকর্ণ বলেন, লিখিতভাবে পদমর্যাদা ত্যাগ করলেও তিনি (রাজকন্যা) এখনও রাজমর্যাদা ভোগ করেন এবং রাজপরিচয় বহন করেন। রাজপরিবারের কোনও সদস্যের রাজনীতিতে আসাকে অগ্রহণযোগ্য ও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজার বিরোধিতার পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য উবলরত্নেরপক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা বাতিল করে তার দল। তবে নির্বাচন কমিশন এখনও তার মনোনয়ন বাতিল করেনি। মনোনয়ন বাতিলের জন্য আগাম শুক্রবার পর্যন্ত সময় পাচ্ছে কমিশন। তবে এক্ষেত্রেও রাজার মতের বিরোধিতা করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স আভাস দিয়েছে, উবলরত্নকে মনোনয়ন দেওয়া দল থাই রাকসা চার্ট পার্টিকে ভেঙে দেওয়ারই তৎপরতা চালাচ্ছেন এক অ্যাক্টিভিস্ট। অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রটেকশন অব দ্য কন্সটিটিউশন এর মহাসচিব তিনি। রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্রিসুয়ান জানিয়া নামের ওই অ্যাক্টিভিস্ট রয়টার্সকে বলেন, ‘রাজ ঘোষণার মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে দলটি নির্বাচনি আইন লঙ্ঘন করেছে।’ স্রিসুয়ান জানান, তিনি থাই রাকসা চার্ট পার্টির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন বরাবর অভিযোগ দেবেন। দলটিকে ভেঙে দেওয়ার জন্য সাংবিধানিক আদালতে সুপারিশ করতে সুপারিশকে অনুরোধ জানাবেন।
দল নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন থাই রাকসা চার্ট পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান চাতুরন চাইসায়েং। দলটি জানিয়েছে, তারা রাজার বার্তার প্রতি সম্মান জানাবে এবং সে অনুযায়ীই নির্বাচনে অংশ নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির গ্রাজুয়েট উবলরত্ন। ১৯৭২ সালে এক আমেরিকান নাগরিককে বিয়ে করেন। বিদেশিকে বিয়ে করে রাজমর্যাদা ত্যাগ করেন। তবে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০০১ সালে থাইল্যান্ডে ফিরে তিনি রাজকীয় যাপনে অংশ নিতে শুরু করেন। নির্বাসনে থাকা সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাই মূলত বিদেশ থাই রাকসা চার্ট পার্টি নামের নতুন দলটিকে পরিচালনা করেন। সামরিক জান্তা সরকার থাকসিনের দল পিউ চার্ট পার্টিকে ভেঙে দেওয়ার হুমকি প্রদানের পর থাই রাকসা চার্ট পার্টি নামে ছোট পরিসরে আরেকটি দল গড়ে তোলে তারা। থাকসিন নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেই দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। থাই রাজকন্যা উবলরত্ন’র সঙ্গে থাকসিনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।