বিধিবহির্ভূতভাবে পাকিস্তানের এফ সিক্সটিন বিমান ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারস্থ হয়েছে নয়াদিল্লি। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যবহারের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থেকে এই মডেলের বিমানগুলো কেনে ইসলামাবাদ। তবে ভারতের দাবি, সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা চলাকালে ভারতীয় বাহিনীর বিমান ধ্বংস করা হয়েছে এফ-সিক্সটিন দিয়ে।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সে দেশের আধাসামরিক বাহিনীর ওপর জইশ-ই-মোহাম্মদের স্বঘোষিত আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হলে এই পর্যায়ের ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা শুরু হয়। হামলায় রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের মাটিতে বিমান হামলা চালায় ভারত। এরপর থেকেই দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে উঠে আসছে পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা ও একে অন্যের হামলা প্রতিহত করার খবর। দুই দেশই একে অপরকে শাসাচ্ছে নিজেদের হাতে থাকা শতাধিক পারমাণবিক অস্ত্রের ইঙ্গিত সামনে এনে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযোগ, আজাদ কাশ্মিরে ভারতের বিমান হামলার পরদিন দুই দেশের আকাশে যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়, সে সময় পাকিস্তান নিজের হাতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে। তবে ইসলামাবাদ বলছে, তারা কোনোভাবেই সেদিন এফ-১৬ ব্যবহার করেনি। ভারতের দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক উত্তেজনা চলাকালে পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। আর পাকিস্তানে একমাত্র এফ-১৬ যুদ্ধবিমানই এই মিসাইল বহনে সক্ষম। দিল্লির মার্কিন দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশের কাছেও এ সংক্রান্ত প্রমাণ তুলে ধরার দাবি করেছে ভারত।
মঙ্গলবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বিষয়টি নিয়ে তার মার্কিন সমকক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহারের প্রমাণ তুলে ধরা হয়।
প্রথম থেকেই ভারতের এ সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইসলামাবাদ। দেশটির অবসরপ্রাপ্ত একজন সামরিক কর্মকর্তার দাবি, চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের যৌথভাবে উৎপাদিত জেএফ সেভেন্টিন বিমানের আঘাতেই ভারতের মিগ ২১ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এমন দাবি চীনকে বাণিজ্যিক সুবিধা এনে দিতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ নেতা মাসুদ আজহারকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিয়েও কথা হয় অজিত দোভাল ও জন বোল্টনের মধ্যে। পুলওয়ামা হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।