‘পাকিস্তানের মাটি থেকে আর কোনও দেশে হামলা হতে দেব না’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অঙ্গীকার করেছেন, তার দেশের মাটিকে ব্যবহার করে বিদেশে আর কোনও হামলা চালাতে দেবেন না। কাশ্মিরের পুনওয়ামাতে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই মোহাম্মদের হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে সে দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযানও শুরু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে এক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে শুক্রবার ইমরান দেশবাসীকে জঙ্গিমুক্ত এক নতুন পাকিস্তান গড়ার স্বপ্ন দেখান।

ইমরান খান ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সে দেশের আধাসামরিক বাহিনীর ওপর জইশ-ই-মোহাম্মদের স্বঘোষিত আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হলে এই পর্যায়ের ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা শুরু হয়। হামলাকারী গোষ্ঠী জইশকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গর্ভজাত দাবি করে ভারত দাবি করে, এ ঘটনায় পাকিস্তানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। জইশ-এর ঘাঁটি ধ্বংসের কথা বলে  ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের মাটিতে বিমান হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অবশ্য ভারতের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ আখ্যা দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মনে করে, পাকিস্তানের মাটি থেকে ভারতবিরোধী জঙ্গি তৎপরতা ইন্ধন পায়। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার মুখে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নামে ইমরানের সরকার। পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে এক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান বলেছেন, ‘আমরা এখন থেকে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীকেই আমাদের দেশে তৎপরতা চালাতে দেব না’।

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ১৮২ টি মাদ্রাসা বাজেয়াপ্ত করাসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত দলগুলোর ১শ’রও বেশি জনকে আটক করার কথা ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ভারত একে  লোক দেখানো পদক্ষেপ আখ্যা দিয়েছে।তবে ইমরান বলছেন, একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল পাকিস্তান গড়াই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। শুক্রবারের সমাবেশে ইমরান বলেন, “বাইরে কোনোরকম সন্ত্রাসবাদের জন্য এ সরকার পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার হতে দেবে না। ইনশাল্লাহ, আপনারা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা দেখতে পাবেন।”

কাশ্মিরে ১৪ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জইশ ই মোহাম্মদের আত্মস্বীকৃত আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ২৬ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) ভোর সাড়ে ৩টা নাগাদ ১২টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে ভারত। তাদের দাবি, ওইদিন পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে লেজার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সাহায্যে ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ‘‘বালাকোটে জইশের সবথেকে বড় জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ভারত। জইশ-এ-মোহাম্মদের বহু জঙ্গি, সিনিয়র কমান্ডার, প্রশিক্ষক নিহত হয়েছে।’’ তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিভাগের বিবৃতিতে ভারতের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়, ‘আরও একবার ভারত সরকার স্বার্থপরতা ও কল্পনাপ্রসূত দাবি করেছে।’ ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করে এর পাইলটকে আটক করলেও এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সদিচ্ছায় তাকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পক্ষে দাবি করা হয়, সংলাপের স্বার্থে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বারবার চেষ্টা করেও টেলিফোনে কথা বলতে সমর্থ হননি তিনি।