নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে হামলা

মরদেহ হস্তান্তরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা

নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের দাফন করার প্রহর গুনছেন তাদের স্বজনরা। স্বেচ্ছাসেবকরা কবর খুঁড়ে রেখেছেন। কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো হস্তান্তর করলে শুরু হবে তাদের দাফন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে নিউ জিল্যান্ডবাসী এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। ফুল দেওয়ার স্থানগুলো ভরে গেছে। ফুলের সঙ্গে রয়েছে সমবেদনা জানিয়ে লেখা চিরকুটও।2000
শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকার দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা হয়। এদের একটি শহরের আল নূর মসজিদ। আরেকটি মসজিদ লিনউডে অবস্থিত। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুই হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে উপনীত হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪৮ জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে নূর মসজিদে। হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্ট একজন শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী, যে মনে করে ‘মুসলিমদের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি’ তৈরি করা উচিত এবং শ্বেতাঙ্গরা ‘গণহত্যার শিকার।’ এই হামলা শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে নিউ জিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
নিউ জিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, ‘আমাদেরকে মৃত্যুর কারণ ও নিহত ব্যক্তির পরিচয়ের বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হতে হবে। তার আগে তো আমরা মরদেহ হস্তান্তর করতে পারব না। তবে আমরা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিগুলোর বিষয়ে ওয়াকিবহাল। কাজ ঠিক রেখে যত দ্রুত সম্ভব মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করছি আমরা।’ পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের একটি প্রাথমিক তালিকা সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তত তারা কিছুটা হলেও তথ্য পাবেন।
ক্রাইস্টচার্চ শহরে নিউ জিল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে স্বেচ্ছাসেবক এসে উপস্থিত হয়েছেন। তারা নিহতদের জন্য কবর খোঁড়ায় সহায়তা করেছেন। তবে স্থানটি দৃষ্টির আড়ালে নেওয়ার জন্য সাদা নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া দেওয়া হয়েছে। এখন অপেক্ষা মৃতদেহগুলো হস্তান্তরের।
নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নূর মসজিদ ও শহরটির বোটানিক্যাল গার্ডেনগুলোর কয়েকটি স্থানে নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে মানুষ ফুল রেখে যাচ্ছেন।  শত শত ফুলের সঙ্গে সেখানে জ্বালানো হচ্ছে মোমবাতি। নিহতদের স্মরণে ঝোলানো রয়েছে বেলুন। বৃষ্টিপাতের মধ্যেও সমবেদনা জানাতে আসা মানুষেরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকছেন শ্রদ্ধা জানাতে। একসঙ্গে দাঁড়িয়েই ভিজেছেন তারা নীরবে। সমবেদনা জানিয়ে লেখা চিরকুটগুলোর একটিতে কার্ডবোর্ড কেটে বানানো ভালোবাসা চিহ্নের বিষয়ে লেখা হয়েছে, ‘আমরা আপনাদের স্মরণে ৫০টি হৃদয় বানিয়েছি। ৫০টি জীবনের জন্য ৫০টি হৃদয়চিহ্ন।’