ঘৃণ্য বর্ণবাদী হামলার বিপরীতে নিউ জিল্যান্ড যখন সম্প্রদায়গত বিভক্তির ভেদরেখা মুছতে তৎপর, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস তখন ‘প্রতিশোধ’র হুঙ্কার ছেড়েছে। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটির কথিত মুখপাত্র আবু হাসান আল মুহাজিরের ৪৪ মিনিটের এক অডিও বার্তাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ছয় মাসের নিরবতা ভেঙে আইএসের এই শীর্ষ নেতা জেগে ওঠার ঘোষণা দিয়েছে।
১৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদ। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউয়ের আল নুর মসজিদসহ লিনউডের আরেকটি মসজিদে তার তাণ্ডবের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। এর প্রতিক্রিয়ায় অডিওবার্তায় আবু হাসান আল মুহাজির বলেছে, ‘দুই মসজিদে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য দেখে বোকাদের এবার জেগে ওঠা উচিত। আর তাদের ধর্মের ওপর এমন হামলার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য খিলাফতের (আইএস) সদস্যদের উৎসাহিত করা উচিত।’
বুধবার শোক আর শ্রদ্ধায় সমাহিত করা হয়েছে মসজিদের হামলায় নিহত ছয়জনকে। জানাজা শেষে ক্রাইস্টচার্চ মেমোরিয়াল পার্ক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা অর্ডান সংহতিমূলক অবস্থান থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নামাজ সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি দুই মিনিট নীরবতা পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে আইএস এসেছে বিভক্তির সূত্রকে সঙ্গে নিয়ে।
উত্থানের কালে ইরাক ও সিরিয়ায় প্রবল দাপট দেখালেও আইএস এখন অনেকটাই নিস্ক্রিয়। সিরিয়ায় এখন কেবল বাঘুজে তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আল মুহাজিরের দাবি, ‘সিরিয়ার বাঘুজে জানা-অজানা সব ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করে বোমা বর্ষণ করে মুসলমানদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে’। নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে হামলার ঘটনাকে সেই বাঘুজের চলমান যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছে সে।
আল মুহাজিরকে আইএস-এর গুরুত্বপূর্ণ নেতা আখ্যা দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোষ্ঠীটির প্রকাশিত ভিডিওবার্তায় তার কোনও ছবি দেখা যায় না। তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও প্রায় কিছুই জানা যায় না। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তার সর্বশেষ অডিওবার্তা প্রকাশিত হয়েছিল। এর ব্যপ্তী ছিল চার মিনিটেরও কম।