মহাকাশে ভারতের ‘মিশন শক্তি’ পরীক্ষা: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

স্যাটেলাইট বিরোধী অস্ত্র পরীক্ষার (এএসএটি) কারণে মহাকাশে ‘বিশৃঙ্খলা’র সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারপ্রাপ্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান। বুধবার (২৭ মার্চ)  মহাকাশে ভারত এ ধরনের অস্ত্র দিয়ে নিজেদের একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস করার পর এ সাবধান বানী উচ্চারণ করেন তিনি। এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসাও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

যে স্যাটেলাইটটি ধ্বংস করা হয়েছে তা গত জানুয়ারিতে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল
বুধবার (২৭ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে নিজেদের স্যাটেলাইট ধবংসের পরীক্ষা চালানোর কথা জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মহাকাশে চালানো এ 'এএসএটি' পরীক্ষার নাম দেওয়া হয়, ‘মিশন শক্তি’ অপারেশন। ভারত হলো এএসএটি পরীক্ষা চালানো চতুর্থ দেশ। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কাছে এ ধরনের স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে। ২০০৭ সালে চীনের চালানো এএসএটি পরীক্ষা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সেবার ৮৬৫ কিলোমিটার উচ্চতায় এএসএটি দিয়ে একটি আবহাওয়াবিষয়ক স্যাটেলাইট ধ্বংস করেছিল চীন। এতে কক্ষপথে ধ্বংসাবশেষের বিশাল মেঘ তৈরি হয়েছিল। এবার ভারতীয় এএসএটি পরীক্ষার পর উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান বলেছেন, ভারতীয় এএসএটি পরীক্ষা নিয়ে এখনও পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘আমার বার্তা হলো: মহাকাশে আমাদের যাদের উপস্থিতি আছে তারা যেন একে বিশৃঙ্খল করে না তুলি। মহাকাশকে এমন রাখতে হবে যেন আমরা সেখানে কাজ করতে পারি। মহাকাশ এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষের কাজ করার স্বাধীনতা থাকা উচিত।’

পেন্টাগনের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, ভারতীয় পরীক্ষার কারণে সৃষ্ট আড়াইশোরও বেশি ধ্বংসাবশেষের ওপর নজর রাখছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে স্যাটেলাইট ধ্বংসের পরীক্ষা চালানো হলে এর থেকে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষগুলো সামরিক-বেসামরিক স্যাটেলাইট কার্যক্রমের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া সেগুলোর সঙ্গে মহাকাশের অন্য বস্তুগুলোর সংঘর্ষ হতে পারে। তবে ভারত বলছে, দেশটি ইচ্ছাকৃতভাবে বায়ুমণ্ডলের নিম্ন স্তরে (৩০০ কিলোমিটার উচ্চতায়) ‘মিশন শক্তি’ পরীক্ষা চালিয়েছে যেন মহাকাশে কোনও ধ্বংসাবশেষ না থাকে। তাছাড়া যে ধ্বংসাবশেষ থেকে যাবে সেগুলোও যেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরে আসে তাও নিশ্চিত করা যাবে।  

ভারতের এ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, ধ্বংসাশেষের পথ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

২০০৭ সালে চীনের চালানো এএসএটি পরীক্ষা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সেবার ৮৬৫ কিলোমিটার উচ্চতায় এএসএটি দিয়ে একটি আবহাওয়াবিষয়ক স্যাটেলাইট ধ্বংস করেছিল চীন। এতে কক্ষপথে ধ্বংসাবশেষের বিশাল মেঘ তৈরি হয়েছিল। এবার ভারতীয় এএসএটি পরীক্ষার পর ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসাও। বুধবার (২৭ মার্চ) নাসার প্রধান জিম ব্রিডেনস্টাইন কংগ্রেসকে বলেন, ‘কিছু দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে স্যাটেলাইট বিধ্বংসী পরীক্ষা চালাতে পছন্দ করেন। এতে কক্ষপথে ধ্বংসাবশেষ ক্ষেত্র তৈরি হয় যা আমরা এখনও মোকাবিলা করে যাচ্ছি। নিজেদের সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ ক্ষেত্রগুলোর কারণে আবার সে একই দেশগুলোই মহাকাশ পরিস্থিতিজনিত সচেতনতার জন্য আমাদের কাছে আসে।’