তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের দল ক্ষমতাসীন একে পার্টি। রাজধানী আঙ্কারার পর দেশের বৃহত্তম শহর ও উসমানীয় খিলাফতের রাজধানী ইস্তানবুলেও পরাজিত হয়েছেন রক্ষণশীল একে পার্টির প্রার্থীরা। দুই শহরেই বিজয়ী হয়েছে বিরোধী দল কামাল আতাতুর্কের সিএইচপি। তৃতীয় বৃহত্তম শহর ইজমিরেও মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছে দলটি। প্রায় ১৬ বছর ধরে তুরস্কের ক্ষমতায় থাকা এরদোয়ানের একে পার্টির জন্য এ ফল স্পষ্টতই অস্বস্তিকর।
অর্থনৈতিক সংকটের সময় এই নির্বাচনকে এরদোয়ানের প্রতি জনগণের গণভোট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। ফলে স্থানীয় নির্বাচন হলেও জাতীয় পর্যায়ের আমেজ ছিল। বিভিন্ন স্থানে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন এরদোয়ান। বিরোধীরাও এবারের নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিল। সেই চ্যালেঞ্জে দেশের সবচেয়ে বড় তিন শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয় তারা।
ইস্তানবুলে একে পার্টির প্রার্থী ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। তিনিও এরদোয়ানের এক সময়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে বিজয় নিশ্চিতে ব্যর্থ হন।
এদিকে নির্বাচনের পর এরদোয়ান বলেছেন, তার দলের কোনও সীমাবদ্ধতা থাকলে সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধন করা হবে। সিএইচপি নেতা কেমাল কিলিকদারোগলু বলেছেন, জনগণ গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
এরদোয়ানের বিরুদ্ধে গণভোট!
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অতীত নির্বাচনি সাফল্যের মূলে ছিল শক্তিশালী অর্থনীতি। কিন্তু তুর্কি লিরার ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া, মূল্যস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এখন এরদোয়ানের দলকে ফেলছে চ্যালেঞ্জের মুখে। রবিবার রাতে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এরদোয়ান এখনও তার দলকে দেশের ‘এক নম্বর দল' হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু একইসঙ্গে মেয়র নির্বাচনে পিছিয়ে থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘যদি আমাদের কোনও ব্যর্থতা থেকে থাকে, তাহলে আমাদের দায়িত্ব হলো তা সমাধান করা।’ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ডয়চে ভেলে।