দূতাবাস থেকে অ্যাসাঞ্জকে বহিষ্কার করছে ইকুয়েডর: উইকিলিকস

লন্ডন দূতাবাস থেকে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে বহিষ্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইকুয়েডর। ইকুয়েডর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যমটি এক টুইট বার্তায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা ওই টুইট বার্তায় দাবি করা হয়েছে ‘আইএনএ পেপার অফশোর কেলেঙ্কারি’তে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে বহিষ্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।  দেশটির এক আইনপ্রণেতার ফাঁস করা আইএনএ পেপারে প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোর দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ পায়। উইকিলিকসে প্রকাশিত হয়েছে এসব নথি।২০১২ সাল থেকে লন্ডনের এই দূতাবাসেই রয়েছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয় ২০১০ সালে। মার্কিন কূটনৈতিক নথি ফাঁসের মধ্য দিয়ে উইকিলিকস উন্মোচন করে মার্কিন সাম্রাজ্যের নগ্নতাকে। সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে আছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তবে ধর্ষণের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি। অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা, তিনি সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ করবে। আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড দেবে। ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বের হলে সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ না করার নিশ্চয়তা চান অ্যাসাঞ্জ। গত বছর সুইডিশ প্রসিকিউটররা ওই অভিযোগের তদন্ত বন্ধ করে দেন। তবে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

মঙ্গলবার ইকুয়েডরের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো অভিযোগ করেন লন্ডন দূতাবাসে আশ্রয়ের শর্ত ‘বারবার ভঙ্গ’ করছেন অ্যাসাঞ্জ। কোনও প্রমাণ সরবরাহ ছাড়াই তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পারিবারিক ছবি প্রকাশের জন্য অ্যাসাঞ্জকে দায়ী করেন মোরেনো। তবে অ্যাসাঞ্জের আইনি দলের দাবি, এসব কেলেঙ্কারির ঘটনা ব্যবহার করে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চাইছেন মোরেনো।