শ্রীলঙ্কার সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলের এক আত্মঘাতী হামলাকারীকে আগে একবার গ্রেফতার করে ছেড়ে দিয়েছিল দেশটির পুলিশ। শ্রীলঙ্কা সরকারের এক সিনিয়র মুখপাত্র ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। শরীরে বিস্ফোরক নিয়ে ইলহাম আহমেদ ইব্রাহিম নামের ওই হামলাকারী রবিবারের হামলায় আত্মঘাতী হয়।
রবিবার (২১ এপ্রিল) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা এবং তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় অন্তত ২৫৩ জন নিহত হয়। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তাওহিদ জামাত বা এনটিজে নামে পরিচিত শ্রীলঙ্কার স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা জাহরান হাশিম মোহাম্মদকে হামলার মূল হোতা হিসেবে সন্দেহ করছে শ্রীলঙ্কা সরকার। আইএস-এর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে হাশিমের পরিকল্পনা মাফিক ওই হামলা হয়েছে।
রবিবারের ওই সিরিজ হামলায় আত্মঘাতী হওয়া দেশটির ধনকুবের মসলা ব্যবসায়ীর দুই সন্তানের একজন ইব্রাহিম। শ্রীলঙ্কা সরকারের মুখপাত্র সুদর্শনা গুনাবর্ধনে জানিয়েছেন, সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলের হামলাকারীকে আগে একবার আটক করেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে রবিবারের দুই আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে ইলহাম আহমেদ ইব্রাহিম ও তার ভাই ইমসাত আহমেদ ইব্রাহিমকে শনাক্ত করতে সমর্থ হয় শ্রীলঙ্কা সরকার। সেদিনের সিরিজ হামলায় দেশটিতে অন্তত ২৫৩ জন নিহত হয়।
দেশটির পুলিশ সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, দুই আত্মঘাতী হামলাকারীর বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ ইব্রাহিমকে আটক করা হয়েছে। ধনকুবের এই মসলা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সন্তানদের সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ায় সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারা জানিয়েছেন বড় ইব্রাহিম হেফাজতে রয়েছে। আর ইব্রাহিম পরিবারের অন্য তিন সদস্যের বিষয়ে দেশটির পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তবে এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মোহাম্মদ ইউসুফ বা ওই পরিবারের আর কারোর কাছেই পৌঁছাতে পারেনি সিএনএন।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীরা উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের, উচ্চশিক্ষিত এবং দেশের বাইরে পড়াশোনা করা। তিনি এসব লোকের হামলা চালানোয় সম্পৃক্ত হওয়াকে ’বিস্ময়কর’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, এদের কয়েকজন হামলার আগে নজরদারিতে ছিল। তবে হেফাজতে নেওয়ার মতো তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ হাতে ছিল না।