জাকির নায়েকের পিস টিভি'র প্রচার বন্ধ রেখেছে শ্রীলঙ্কার ক্যাবল অপারেটররা

ভারতের বিতর্কিত ইসলামি চিন্তাবিদ জাকির নায়েকের মালিকানাধীন চ্যানেল পিস টিভি'র প্রচার বন্ধ রেখেছে শ্রীলঙ্কার ক্যাবল টিভি অপারেটর ডায়লগ ও এসএলটি। শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের প্রেক্ষাপটে উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রচার ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। বাংলাদেশ ও ভারতে  পিস টিভি নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কায় ক্যাবল অপারেটররা বন্ধ রাখলেও সরকারিভাবে পিস টিভি নিষিদ্ধ করা হয়নি।

জাকির নায়েক
২০১৬ সালে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরায় জঙ্গি হামলাকারীদের অন্তত দুইজন টেলিভিশন বক্তা জাকির নায়েককে অনুসরণ করতো জানার পর তোলপাড় শুরু হয়। ওই বছর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে ভারত ছেড়ে যান তিনি। পরে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ ঘুরে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেন। ভারতে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া জঙ্গিরাও জাকির নায়েককে অনুসরণ করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পাটনার গান্ধী ময়দান ও বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণে আটক জঙ্গিদের কাছ থেকেও জাকিরের বক্তৃতার সিডি ও বই উদ্ধারের দাবি করেছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। 

গত ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে হামলার ঘটনায় আইএস এর পক্ষ থেকে দায় স্বীকারের পর দেশটির ক্যাবল অপারেটররাও জাকির নায়েকের পিস টিভি নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছে। শ্রীলঙ্কার সব থেকে বড় দুই কেবল অপারেটর- ডায়ালগ ও এসএলটি জানিয়েছে, তারা তাদের চ্যানেলের তালিকা থেকে পিস টিভিকে বাদ দিয়েছে।  

এদিকে সোমবার (২৯ এপ্রিল) কেরালার পালাক্কড থেকে আবু দুজানা নামের এক ইসলামিক স্টেট জঙ্গিকে গ্রেফতার করে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)৷ গোয়েন্দাদের দাবি, শ্রীলঙ্কা বিস্ফোরণের মূল হোতা জাহরান হাশমির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল দুজনার৷ জিজ্ঞাসাবাদে ওই আইএস জঙ্গি জানিয়েছে, সে নিয়মিত পিস টিভিতে জাকির নায়েকের বক্তৃতা শুনতো৷ 

উল্লেখ্য, ২১ এপ্রিল (রবিবার) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা এবং তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় অন্তত ২৫৩ জন নিহত হয়। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তাওহিদ জামাত বা এনটিজে নামে পরিচিত শ্রীলঙ্কার স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা জাহরান হাশিম মোহাম্মদকে হামলার মূল হোতা হিসেবে সন্দেহ করছে সে দেশের সরকার। আইএস-এর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে হাশিমের পরিকল্পনা মাফিক ওই হামলা হয়েছে।