মোদিকে থাপ্পড় মারতে চাইনি: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিকে তিনি থাপ্পড় মারতে চাননি। সাম্প্রতিক এক জনসভায় মমতা মোদির উদ্দেশে গণতন্ত্রের থাপ্পড় দেওয়ার ইচ্ছের কথা বললেও বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার এক নির্বাচনি সভায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী দাবি করেন মোদির ওপর হাত তোলার কথা তিনি কখনোই বলেননি। মমতার দাবি, তিনি মানুষের জবাবের কথা বলতে চেয়েছিলেন ৷ ভোটে হারার পর মোদি গণতন্ত্রের থাপ্পড় খাবেন, এমনটা বলতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন মমতা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ এই খবর জানিয়েছে।

noname

গত মঙ্গলবার এক নির্বাচনি জনসভায় মমতা বলেন, 'যখন আমার নামে, আমার কাজের নামে কেউ কেউ মিথ্যা কথা বলে, ইচ্ছে করে ঠাটিয়ে গণতন্ত্রের থাপ্পড় দিই।' তার এই মন্তব্যের জবাবে পশ্চিমবঙ্গে এক নির্বাচনি প্রচারে এসে মমতাকে দিদি সম্মোধন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন তার থাপ্পড়কে আর্শীবাদ হিসেবে নিতে চান তিনি। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এই শীর্ষ নেতা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি ও চাঁদাবাজি নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ করেন।

বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ায় আরেকটি জনসভায় মমতা বলেন, ‘মোদিকে থাপ্পড় মারব আমি একবারও বলিনি ৷ আমি কেন কাউকে থাপ্পড় মারব? মোদিকে গণতন্ত্রের থাপ্পড় মারব বলেছি ৷ অর্থাৎ মানুষ মোদিকে ভোটে হারাবে৷ সেটাই হবে গণতন্ত্রের থাপ্পড় ৷’

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বামফ্রন্টের তিন দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসা তৃণমূলকে এবারই প্রথম বিজেপির আগ্রাসী প্রচার মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সাত দফার এবারের লোকসভা নির্বাচন শেষ হবে ১৯ মে। ফলাফল পাওয়া যাবে ২৩ মে।

নির্বাচনি এই ডামাডোলে থাপ্পড় ইস্যুতে মমতার সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন অনেক বিজেপি নেতা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ উর্দু কবি বসির বদরের একটি কবিতা স্মরণ করে টুইটারে লেখেন, ‘একদিন যখন আমরা আবার বন্ধু হব, তখন (আপিন এনিয়ে) লজ্জিত হবেন না!’

তবে তৃণমূলনেত্রী মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতের অনেক বিরোধী নেতা৷ আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব টুইটারে মমতার সমর্থনে লিখেছেন, ‘গণতন্ত্রের থাপ্পড় দরকার নরেন্দ্র মোদির৷ কারণ উনি তৃণমূলকে তোলাবাজদের দল বলে গালাগালি দিয়েছেন’৷