বুথফেরত জরিপে চাঙা ভারতের শেয়ারবাজার, ঊর্ধ্বমুখী রুপি

লোকসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে বিজেপি’র ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত মিলতেই সোমবার চাঙা হয়ে উঠেছে ভারতের শেয়ারবাজার। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে ভারতীয় রুপিতেও। বুথফেরত জরিপের ফল বলছে, ৫৪৫ আসনের পার্লামেন্টে ৩৩৯ থেকে ৩৬৫ আসন পাবে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি।


noname

জরিপের এমন ফল সামনে আসার পর সোমবার সকালে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে মুম্বাইভিত্তিক শেয়ারবাজার বোম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) প্রধান সূচক সেনসেক্স বাড়তে শুরু করে। এক ধাক্কায় সেনসেক্স বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬২ পয়েন্ট।

বিএসই সেনসেক্স এক ধাক্কায় ৯৬২.১২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াল ৩৮,৮৯২.৮৯ পয়েন্ট। শেয়ারের দর বেড়েছে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।

দিনের শুরুতেই শেয়ারবাজারের ইতিবাচক প্রবণতায় বিনিয়োগকারীরা ৩ লাখ কোটি রুপিরও বেশি লাভের মুখ দেখেছে বলে জানা গেছে। সোমবার সারাদিনই বাজার চাঙা থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ধারণা, আগামী দুই তিন দিন তেমন পরিবর্তন হবে না বাজারে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত আপাতত শেয়ারবাজার চাঙা থাকবে।

এর আগে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের শেষেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। সেবারও বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপির সরকার গড়ার ইঙ্গিত মেলার পর লাফিয়ে বেড়েছিল শেয়ারবাজার।

এদিকে সোমবার বেড়েছে ভারতীয় মুদ্রা রুপির মানও। এদিন ডলারের বিপরীতে রুপির দাম বেড়েছে ৬১ পয়সা।

এদিকে লোকসভা নির্বাচনের মৌসুমে জব্দকৃত সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। রবিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই সময়ে নগদ অর্থ, মদ, মাদক ও মূল্যবান ধাতু মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি রুপি অর্থের সম্পদ জব্দ করেছে।

ভারতে কয়েক দশকের মধ্যে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে তিক্ততাপূর্ণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে রবিবার (১৯ মে)। দেড় মাস ধরে সাতটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। প্রায় ৯০ কোটি ভোটারের দেশটিতে নির্বাচনের সময় অবৈধ প্রভাব খাটাতে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অর্থ ও মাদক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

আগামী ২৩ মে (বৃহস্পতিবার) ফল ঘোষণার আগেই রবিবার নির্বাচনের সময় জব্দকৃত সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় মোট ৮৩৯ দশমিক ৩ কোটি রুপির নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় জব্দ করা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৩০৩ দশমিক ৮৬ কোটি। এছাড়া এ বছর বিভিন্ন মাদকের অর্থমূল্য প্রায় ১২৭০ দশমিক ৩৭ কোটি রুপি। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় এর পরিমাণ ছিল ৮০৪ দশমিক ৫ কোটি রুপি।

এ বছর বিভিন্ন সংস্থার জব্দকৃত বিভিন্ন মূল্যবানের ধাতুর অর্থমূল্য ৯৮৬ দশমিক ৭৬ কোটি রুপি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জব্দকৃত মদের অর্থমূল্য ২৯৪ দশমিক ৪১ কোটি রুপি। এছাড়া এ বছর জব্দকৃত অন্যান্য সম্পদের অর্থমূল্য ৫৮ দশমিক ৫৬ কোটি রুপি।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ু থেকে সবচেয়ে বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। রাজ্যটি থেকে জব্দ করা হয়েছে ৯৫০ দশমিক ১২ কোটি রুপি। এরপরই রয়েছে গুজরাট। সেখান থেকে জব্দ করা হয়েছে ৫৫২ দশমিক ৭৮ কোটি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি। ৪২৬ দশমিক ১ কোটি রুপির সম্পদ জব্দ করা হয়েছে সেখান থেকে।

সর্বনিম্ন জব্দ হওয়া রাজ্যগুলোর মধ্যে মিজোরাম ৬ লাখ, সিকিম ২৯ লাখ ও পদুচেরি থেকে ৭৯ লাখ রুপির সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। সূত্র: নিউজ ১৮, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।