উত্তর কোরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী নিখোঁজ

উত্তর কোরিয়ায় অবস্থানরত অস্ট্রেলিয়ার এক শিক্ষার্থীকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে তার পরিবার। আলেক সিজলি (২৯) নামের ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে আশঙ্কা করছে তার পরিবার। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। পিয়ংইয়ং-এর তরফ থেকেও ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মারাত্মক আখ্যা দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর অবস্থান জানাতে পিয়ংইয়ং কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।noname

অস্ট্রেলিয়ার পার্থের বাসিন্দা আলেক সিজলি গত কয়েক বছর ধরে উত্তর কোরিয়ায় বসবাস করেন। কিম ইল সাং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরিয়ান লিটারেচারে মাস্টার্স করছেন তিনি। পশ্চিমা পর্যটকদের জন্য দেশটিতে ভ্রমণ আয়োজনের একটি ব্যবসা চালাতেন তিনি। ২০১২ সালে প্রথমবার তিনি সেখানে যান বলে তার পরিবারের দাবি।

বৃহস্পতিবার আলেক সিজলি’র পরিবারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয় সময় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে ডিজিটাল উপায়ে সংযুক্ত ছিলেন তিনি। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। যেটি তার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক।

গত মার্চে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে লেখা এক নিবন্ধে সিজলি দাবি করেন উত্তর কোরিয়ায় বসবাসকারী অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র নাগরিক তিনি। চীনে পড়াশোনার সময়ে উত্তর কোরিয়ার কয়েক জনের সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে তাদের দেশে বসবাসে আগ্রহী হয়ে ওঠেন বলে দাবি করেন তিনি। গত বছর স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজলি জানিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ায় বসবাসের ক্ষেত্রে তিনি কখনও হুমকি বোধ করেননি।

এর আগে বেশ কয়েকবার উত্তর কোরিয়ায় বিদেশি নাগরিক আটকের ঘটনা ঘটেছে। কখনও অবৈধভাবে প্রবেশ বা কখনও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে রাষ্ট্র বিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় তাদের আটক করা হয়েছে।

২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক জন শর্টকে উত্তর কোরিয়ায় আটকের পর ফেরত পাঠানো হয়। পর্যটন কেন্দ্রে খ্রিষ্ট্র ধর্মের পুস্তিকা বিতরণের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উত্তর কোরিয়া বেশ কঠোর আর বহুবারই মিশনারীদের আটকের ঘটনা ঘটেছে।

২০১৬ সালে মার্কিন শিক্ষার্থী ওত্তো ওয়ার্মবিয়ারকে উত্তর কোরিয়ায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এক সংঘবদ্ধ পর্যটনের সময় প্রোপাগান্ডামূলক চিহ্ন চুরির দায়ে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয। ১৭ মাস কারাগারে কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পরে মারা যান তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় আটক থাকা অবস্থায় নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ২২ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে থাকে পিয়ংইয়ং।

অন্য অনেক পশ্চিমা দেশের মতো উত্তর কোরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার কোনও দূতাবাস নেই। সুইডেন দূতাবাসের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং-এর সঙ্গে সীমিত পর্যায়ের যোগাযোগ রয়েছে তাদের।