সোমবার (৮ জুলাই) থেকে ইক্যুইটি সেলস ও ট্রেডিং খাতে নিয়োজিত ১৮ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা কার্যকর করতে শুরু করেছে জার্মানিভিত্তিক বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডয়েচে ব্যাংক। এদিন টোকিওসহ এশিয়ায় নিয়োজিত শেয়ার ট্রেডার দলগুলোকে জানানো হয়েছে, তাদের চাকরি আর থাকছে না। লন্ডনে ডয়েচে ব্যাংক ভবনে কয়েকজন কর্মীর প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে। সোমবার তারা আর কাজে যোগ দিতে পারেননি।
ডয়েচে ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে ৭৪ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। আগামী তিন বছরে পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে। ব্যাংকের এক মুখপাত্র বলেন, ‘যে ক্ষেত্রে আমাদেরকে গ্রাহকদের বেশি প্রয়োজন সেসব জায়গাকে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। বিশ্বজুড়ে কোম্পানিগুলোকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহায়তা দেওয়ার জন্য অর্থায়ন ও ট্রেজারিতে বিশেষায়িত একটি ডেডিকেটেড করপোরেট ব্যাংক স্থাপন করছি আমরা। ডয়েচে ব্যাংক আন্তর্জাতিক ব্যাংক হয়েই থাকবে। সেটাই আমাদের গ্রাহকরা চান।’
সহকর্মীদের কাছে পাঠানো ইমেইলে সহকর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান সিউয়িং। বলেছেন, চাকরি ছাঁটাইয়ের কারণে কর্মীদের ওপর যে প্রভাব পড়বে তা নিয়ে তিনি ‘গভীরভাবে দুঃখিত’। ডয়েচে ব্যাংকের ‘দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান সিউয়িং। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সাল নাগাদ এক চতুর্থাংশ খরচ কমাতে এবং প্রযুক্তি খাতে ১৩০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করতে চায় তার ব্যাংক।
পুনর্গঠন পরিকল্পনার আওতায় ডয়েচে ব্যাংকের কয়েকজন বোর্ড মেম্বারকেও কোম্পানি ছাড়তে হচ্ছে। প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সিলভি ম্যাথেরাট ও প্রাইভেট এন্ড কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রধান ফ্রাংক স্ট্রস ৩১ জুলাই বিদায় নিচ্ছেন।