কাশ্মির ইস্যুতে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত

কাশ্মির ইস্যুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। ওই প্রতিবেদন ভারতের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি। সোমবার ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সীমান্তপারের মদদে কাশ্মিরে চলা সন্ত্রাসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার

সোমবার জাতিসংঘ হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ইউএনএইচসিআর) কাশ্মিরের মানবাধিকার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ৪৩ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, ভিন্ন মতালম্বীদের বিনা বিচারে আটক ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিশেষ আইন ব্যবহারের সমালোচনা করা হয়েছে। গত বছরও ৪৯ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো ভারত ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলো জাতিসংঘ কমিশন।

নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবার বিকেলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মির ইস্যুতে আগের প্রতিবেদনটি ছিল  উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নতুন প্রতিবেদনেও সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রয়েছে। এতে যা বলা হয়েছে, তা ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরোধী। ওই প্রতিবেদনে সীমান্ত সন্ত্রাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কোনও উল্লেখই নেই।’

মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মিরকে ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশই নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। সেখানে কর্তৃত্ব জাহিরে এখন পর্যন্ত দুইবার যুদ্ধে জড়িয়েছে দেশটি দুটি। চলতি বছরের শুরুর দিকে তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধ শুরুই হয়ে যাচ্ছিলো প্রায়।

বিবৃতিতে রবীশ কুমার বলেন, ‘বছরের পর বছর সীমান্তে সন্ত্রাস চালিয়ে আসছে পাকিস্তান। তাতে কত প্রাণ ঝরেছে তার কোনও হিসাবই নেই ওই প্রতিবেদনে।  বরং পরিকল্পনামাফিক বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের সঙ্গে সন্ত্রাসে মদদ জোগানো একটি দেশকে এক কাতারে বসানোর চেষ্টা করা হয়েছে’।

তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কাশ্মিরের জনগণের ভবিষ্যত নির্ধারণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত আর ভারতের উচিত এই অধিকারকে সম্মান জানানো।’