কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক হ্রাসের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি। বুধবার (৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে নিয়োজিত ভারতীয় দূতকে পাকিস্তান কর্তৃক বহিষ্কার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হ্রাসের ঘোষণা দেওয়ার পর এ আহ্বান জানানো হয়।
সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। কাশ্মির নিয়ে ভারতের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে বুধবার পাকিস্তান তাদের দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে। পাশাপাশি ‘পাঁচ দফা' পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে তারা। এরমধ্যে অন্যতম হলো ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটানো ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাতিল করা।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দেখেছি পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একতরফা পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ দিল্লির দাবি, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তটি বিশ্বের কাছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি আশঙ্কামূলক চিত্র ফুটিয়ে তোলারই প্রচেষ্টা।
সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। বলা হয়, ‘ভারতীয় সংবিধান ছিল, আছে এবং সবসময় একটি সার্বভৌম বিষয় হয়ে থাকবে।’
কাশ্মির নিয়ে ভারতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘ভারত সরকার এবং পার্লামেন্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মিরের উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টা, যা সংবিধানের একটি অস্থায়ী বিধানের কারণে আটকে ছিল। এর ফলে লৈঙ্গিক ও আর্থ-সামাজিক বৈষম্যও ঘুচবে। আরও আশা করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে জম্মু ও কাশ্মিরের সব মানুষের অর্থনৈতিক সক্রিয়তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে জোয়ার আসবে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে এ ধরনের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপকে পাকিস্তান নেতিবাচকভাবে প্রচার করবে। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে ন্যায্যতা দিতে এর ব্যবহার করবে।
পাকিস্তানকে এ ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করতে বলেছে ভারত, যাতে কূটনৈতিক যোগাযোগের স্বাভাবিক পথটা খোলা থাকে।